j
রকমারি

বাংলাদেশে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া

প্রতীকী ছবি: রকমারি

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী বাংলাদেশে তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যাতে উভয়পক্ষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়।

তালাকের নোটিশ প্রক্রিয়া

স্বামী বা স্ত্রী যেকোনো পক্ষ তালাক দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত নোটিশ পাঠাতে হয় এবং অপরপক্ষকেও একটি কপি পাঠাতে হয়। নোটিশ পাওয়ার নব্বই দিন পর তালাক কার্যকর হয়, যদি না এর মধ্যে পক্ষদ্বয় পুনর্মিলিত হন।

সালিশি পরিষদের ভূমিকা

নোটিশ প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান একটি সালিশি পরিষদ গঠন করেন, যার দায়িত্ব উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা। সমঝোতা ব্যর্থ হলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তালাক কার্যকর হয়।

দেনমোহর ও ভরণপোষণ

  • তালাকের পর অপরিশোধিত দেনমোহর পরিশোধ করতে হয়
  • ইদ্দতকালীন সময়ে স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর
  • সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও ভরণপোষণ নিয়ে পৃথক আদালতে মামলা করার সুযোগ থাকে

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

নব্বই দিনের আগেই কি তালাক কার্যকর হতে পারে?

না, আইন অনুযায়ী নোটিশ প্রদানের নব্বই দিন পূর্ণ হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না, তবে স্ত্রী কর্তৃক তালাকের ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতি (খোলা/তালাক-ই-তাফবীজ) প্রযোজ্য হতে পারে।

নোটিশ ছাড়া তালাক দিলে কী হয়?

নোটিশ ছাড়া তালাক দিলে তা আইনগতভাবে অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে এবং এর জন্য শাস্তির বিধানও রয়েছে।

এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো মামলার আইনি পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

ব্যারিস্টার সাদিয়া রহমান

ইংল্যান্ডের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল এবং ঢাকার আইনজীবী। সাংবিধানিক ও আদালত-বিষয়ক প্রতিবেদন লেখেন।

মন্তব্যসমূহ (০)