এসিড নিক্ষেপ শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, একজন মানুষের সারাজীবনের জন্য শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভয়াবহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে দুটি সুনির্দিষ্ট আইন কার্যকর রয়েছে।
দুটি পৃথক আইনের ভূমিকা
এসিড নিক্ষেপজনিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ত্বরিত বিচার নিশ্চিত করতে এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ প্রণয়ন করা হয়, যেখানে অপরাধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২ এসিডের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে সহজে এসিড হাতে না পৌঁছায়।
শাস্তির বিধান
- এসিড নিক্ষেপের ফলে মৃত্যু ঘটলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
- শরীরের কোনো অঙ্গ বিকৃত বা নষ্ট হলে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
- এসিড নিক্ষেপের চেষ্টা করলেও তা পৃথক শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এসিড নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যবস্থা
এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী এসিড আমদানি, উৎপাদন, বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্য জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ পরিষদের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। লাইসেন্সবিহীনভাবে এসিড ব্যবসা পরিচালনা করাও এই আইনে শাস্তিযোগ্য।
অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া
- ঘটনার পরপরই নিকটস্থ থানায় এজাহার দায়ের করতে হয়।
- ভুক্তভোগীকে অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া জরুরি, যা চিকিৎসা প্রমাণ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
- মামলাটি নির্ধারিত ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারের আওতায় পরিচালিত হয়।
ভুক্তভোগীর জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা
এসিড সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা দিতে সরকারিভাবে জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ পরিষদ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কাজ করে। প্রয়োজনে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া যায়।
এসিড নিক্ষেপের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকলেও, এসিডের সহজলভ্যতা রোধে সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগই দীর্ঘমেয়াদে এই অপরাধ কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্যসমূহ (০)