j
LLB

Contingent Contract ও Wagering Agreement: চুক্তি আইনের ৩০ থেকে ৩৬ ধারার ব্যাখ্যা ও পার্থক্য

শর্তের চিহ্ন, চুক্তিপত্র ও পাশা-সদৃশ অনিশ্চয়তার প্রতীকসহ কার্টুন চিত্র
প্রতীকী ছবি: LLB

মূল পয়েন্ট

  • ৩১ ধারা: কোনো সহায়ক ঘটনা ঘটা বা না ঘটার ওপর নির্ভরশীল চুক্তিই শর্তসাপেক্ষ চুক্তি
  • ঘটনা ঘটার ওপর নির্ভরশীল চুক্তি ঘটনা ঘটার আগে বলবৎযোগ্য নয়; ঘটনা অসম্ভব হলে চুক্তি বাতিল (৩২ ধারা)
  • ৩০ ধারা: বাজির চুক্তি বাতিল; এর অধীনে পাওনা আদায়ে মামলা চলে না
  • বাংলাদেশের ৩০ক ধারা অনুযায়ী জেনেশুনে বাজির চুক্তিতে সহায়তার জন্য করা সহায়ক চুক্তিও বাতিল

সব চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই বলবৎযোগ্য হয় না। "তোমার বাড়ি আগুনে পুড়লে আমি তোমাকে দশ হাজার টাকা দেব" বা "অমুক প্রার্থী নির্বাচনে জিতলে তোমার জমি কিনব", এমন চুক্তির কার্যকারিতা একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘটনার ওপর নির্ভর করে। চুক্তি আইন, ১৮৭২ এগুলোকে বলে শর্তসাপেক্ষ চুক্তি (Contingent Contract)। আবার "কাল বৃষ্টি হলে তুমি আমাকে এক হাজার টাকা দেবে, না হলে আমি তোমাকে দেব", এমন চুক্তিও একটি অনিশ্চিত ঘটনার ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু আইন এটিকে দেখে বাজির চুক্তি (Wagering Agreement) হিসেবে, যা বাতিল।

দুটি ধারণাই অনিশ্চিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলেন। এলএলবির চুক্তি আইনে এবং বার কাউন্সিলের প্রস্তুতিতে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ধারাগুলোর পাঠ, দৃষ্টান্ত ও বিশ্লেষণ ধাপে ধাপে দেওয়া হলো। চুক্তির মৌলিক উপাদানগুলো আগে ঝালিয়ে নিতে পারেন চুক্তি কী? বৈধ চুক্তির অপরিহার্য উপাদান লেখায়।

শর্তসাপেক্ষ চুক্তির সংজ্ঞা (৩১ ধারা)

৩১ ধারা অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষ চুক্তি হলো এমন চুক্তি, যাতে কোনো কিছু করা বা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এমন কোনো ঘটনা ঘটা বা না ঘটার শর্তে, যা চুক্তির সহায়ক (collateral)। ধারার দৃষ্টান্তে বলা হয়েছে: ক, খ-কে ১০,০০০ টাকা দেওয়ার চুক্তি করল যদি খ-এর বাড়ি পুড়ে যায়। এটি একটি শর্তসাপেক্ষ চুক্তি।

উপাদান

  1. বৈধ চুক্তি: প্রথমে এটিকে বৈধ চুক্তির সব শর্ত পূরণ করতে হবে।
  2. ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ঘটনা: কার্যকারিতা এমন ঘটনার ওপর নির্ভর করবে, যা ঘটবে কি না নিশ্চিত নয়।
  3. ঘটনাটি সহায়ক: ঘটনাটি চুক্তির মূল প্রতিদানের অংশ নয়, বরং চুক্তির বাইরের একটি স্বতন্ত্র ঘটনা।
  4. ঘটনা প্রতিশ্রুতিদাতার ইচ্ছাধীন নয়: ঘটনাটি যদি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিদাতার খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর করে, যেমন "আমি চাইলে দেব", তাহলে তা প্রকৃত চুক্তি নয়।

বিমা চুক্তি, ক্ষতিপূরণ চুক্তি ও জামিন চুক্তি শর্তসাপেক্ষ চুক্তির পরিচিত উদাহরণ।

শর্তসাপেক্ষ চুক্তি কখন বলবৎযোগ্য (৩২ থেকে ৩৬ ধারা)

ঘটনা ঘটার শর্তে (৩২ ধারা)

কোনো অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘটনা ঘটলে কিছু করা বা না করার চুক্তি সেই ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত বলবৎ করা যায় না। ঘটনাটি অসম্ভব হয়ে গেলে চুক্তি বাতিল হয়। ধারার দৃষ্টান্ত: ক, খ-কে একটি অর্থ দেওয়ার চুক্তি করল যখন খ, গ-কে বিয়ে করবে। গ, খ-কে বিয়ে না করেই মারা গেল। চুক্তিটি বাতিল হয়ে গেল।

ঘটনা না ঘটার শর্তে (৩৩ ধারা)

কোনো অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘটনা না ঘটলে কিছু করার চুক্তি বলবৎ করা যায় তখনই, যখন সেই ঘটনা ঘটা অসম্ভব হয়ে যায়, তার আগে নয়। দৃষ্টান্ত: ক, খ-কে অর্থ দিতে রাজি হলো যদি একটি নির্দিষ্ট জাহাজ ফিরে না আসে। জাহাজটি ডুবে গেল। এখন চুক্তি বলবৎযোগ্য।

জীবিত ব্যক্তির ভবিষ্যৎ আচরণ (৩৪ ধারা)

শর্তটি যদি হয় কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্ট সময়ে কীভাবে আচরণ করবেন, তাহলে সেই ব্যক্তি এমন কিছু করলে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বা আরও শর্ত ছাড়া ওই আচরণ অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন ঘটনাটি অসম্ভব হয়েছে বলে গণ্য হবে। ধারার দৃষ্টান্তে খ, গ-কে বিয়ে করলে ক টাকা দেবে বলে চুক্তি; কিন্তু গ, ঘ-কে বিয়ে করল। এখন খ-এর গ-কে বিয়ে করা অসম্ভব বলে গণ্য, যদিও ঘ-এর মৃত্যুর পর তা সম্ভব হতে পারত।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনা (৩৫ ধারা)

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটার শর্তে চুক্তি হলে, সেই সময় পার হলে বা তার আগেই ঘটনা অসম্ভব হলে চুক্তি বাতিল। আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনা না ঘটার শর্তে চুক্তি হলে, সময় পার হলে বা তার আগেই নিশ্চিত হলে যে ঘটনা ঘটবে না, তখন চুক্তি বলবৎযোগ্য।

অসম্ভব ঘটনার শর্তে চুক্তি (৩৬ ধারা)

চুক্তি করার সময়ই যদি ঘটনাটি অসম্ভব হয়, তাহলে পক্ষগুলো তা জানুক বা না জানুক, চুক্তি বাতিল। যেমন "দুটি সরলরেখা একটি স্থান ঘিরে ফেললে টাকা দেব", এমন চুক্তি শুরু থেকেই বাতিল।

বাজির চুক্তি (৩০ ধারা)

৩০ ধারা অনুযায়ী বাজির মাধ্যমে করা চুক্তি বাতিল। বাজিতে জেতা বলে দাবি করা কোনো কিছু আদায়ের জন্য, অথবা কোনো খেলা বা অনিশ্চিত ঘটনার ফলাফলের ভিত্তিতে কাউকে দেওয়ার জন্য কারও কাছে রাখা কোনো কিছু আদায়ের জন্য মামলা করা যায় না।

বাজির চুক্তির বৈশিষ্ট্য

  • অনিশ্চিত ঘটনা: ভবিষ্যৎ, বা এমনকি অতীতের এমন ঘটনা যার ফল পক্ষগুলোর অজানা।
  • পারস্পরিক জয়-পরাজয়: ঘটনার ফল অনুযায়ী এক পক্ষ জিতবে, অন্য পক্ষ হারবে; উভয় পক্ষেরই জেতা বা হারার সম্ভাবনা থাকতে হবে।
  • ঘটনায় কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেই।
  • জয়-পরাজয় ছাড়া অন্য কোনো স্বার্থ নেই: পক্ষগুলোর ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত কোনো আর্থিক স্বার্থ থাকে না; শুধু বাজির অর্থই তাদের স্বার্থ।

ব্যতিক্রম: ঘোড়দৌড়ের পুরস্কার

৩০ ধারায় বলা হয়েছে, ঘোড়দৌড়ের বিজয়ীকে দেওয়ার জন্য পাঁচশো টাকা বা তার বেশি মূল্যের প্লেট, পুরস্কার বা অর্থের জন্য চাঁদা বা অনুদান এই ধারার কারণে বেআইনি হবে না। তবে একই ধারা স্পষ্ট করেছে, দণ্ডবিধির ২৯৪ক ধারা (লটারি অফিস পরিচালনা) প্রযোজ্য হয় এমন ঘোড়দৌড়-সংক্রান্ত লেনদেন এর মাধ্যমে বৈধ হয়ে যাবে না।

বাংলাদেশের বিশেষ বিধান: ৩০ক, ৩০খ ও ৩০গ ধারা

এখানে বাংলাদেশের চুক্তি আইন উপমহাদেশের অন্য দেশের আইন থেকে আলাদা, এবং পরীক্ষায় এটি উল্লেখ করতে পারলে উত্তর বিশেষ মান পায়।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট Gherulal Parakh v Mahadeodas Maiya (১৯৫৯) মামলায় বলেছিলেন, বাজির চুক্তি বাতিল (void) কিন্তু বেআইনি (illegal) নয়; ফলে বাজির সঙ্গে সম্পর্কিত সহায়ক বা আনুষঙ্গিক চুক্তি, যেমন বাজির অর্থ জোগাতে নেওয়া ঋণ, বৈধ থাকতে পারে। বাংলাদেশের চুক্তি আইনে কিন্তু পরবর্তী সংযোজনে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হয়েছে:

  • ৩০ক ধারা: ৩০ ধারায় বাতিল কোনো চুক্তিতে প্রবেশ, তা কার্যকর বা সম্পাদনে জেনেশুনে সহায়তা করার জন্য, অথবা তার সম্পাদন নিশ্চিত বা জামিন দেওয়ার জন্য করা সব চুক্তি বাতিল।
  • ৩০খ ধারা: ৩০ক ধারায় বাতিল চুক্তির অধীনে প্রদেয় অর্থ, জেনেশুনে এমন চুক্তি সম্পাদনে সহায়তার জন্য কমিশন, দালালি, ফি বা পুরস্কার, এবং কারও পক্ষে এ ধরনের কমিশন বাবদ জেনেশুনে দেওয়া অর্থ আদায়ের জন্য কোনো মামলা চলবে না।
  • ৩০গ ধারা: নাবালক বা মৃত ব্যক্তির পক্ষে অভিভাবক, নির্বাহক, প্রশাসক বা উত্তরাধিকারী এ ধরনের চুক্তির জন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করলে, হিসাবের সময় সেই অর্থের জন্য তাঁরা কোনো কৃতিত্ব (credit) পাবেন না।

অর্থাৎ বাংলাদেশে জেনেশুনে বাজিতে সহায়তার উদ্দেশ্যে করা সহায়ক চুক্তিও বাতিল, যা Gherulal Parakh-এর ভারতীয় অবস্থান থেকে ভিন্ন। মূল শব্দটি হলো "জেনেশুনে" (knowingly); উদ্দেশ্য না জেনে করা লেনদেন এর আওতায় না-ও পড়তে পারে।

আজকের প্রেক্ষাপটে: অনলাইন বাজি

খেলার ফল নিয়ে অনলাইন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে বাজি ধরাও আইনের চোখে বাজির চুক্তি। ৩০ ধারা অনুযায়ী এমন চুক্তি থেকে জেতা অর্থ আদায়ে মামলা চলে না, আর বাজির জন্য জেনেশুনে ধার দেওয়া অর্থও ৩০ক–৩০খ ধারায় আদালতের মাধ্যমে আদায়যোগ্য নয়। এর বাইরে জুয়া-সংক্রান্ত প্রচলিত আইনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আলাদাভাবে দণ্ডনীয় অপরাধও হতে পারে। অর্থাৎ চুক্তি আইন শুধু বলবৎযোগ্যতার প্রশ্ন দেখে, আর ফৌজদারি আইন দেখে কাজটি শাস্তিযোগ্য কি না।

শর্তসাপেক্ষ চুক্তি বনাম বাজির চুক্তি

বিষয়শর্তসাপেক্ষ চুক্তিবাজির চুক্তি
বৈধতাবৈধ; শর্ত পূরণ হলে বলবৎযোগ্যবাতিল; কখনো বলবৎযোগ্য নয়
প্রতিশ্রুতিএক বা উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি থাকতে পারেপারস্পরিক: একজন জিতবে, অন্যজন হারবে
প্রকৃত স্বার্থপক্ষগুলোর ঘটনায় প্রকৃত স্বার্থ থাকতে পারেবাজির অর্থ ছাড়া কোনো স্বার্থ নেই
ঘটনার ভূমিকাঘটনা সহায়ক; চুক্তির উদ্দেশ্য অন্য কিছুঘটনার ফলই চুক্তির একমাত্র উদ্দেশ্য
উদাহরণবিমা, ক্ষতিপূরণ, জামিন চুক্তিখেলার ফল নিয়ে বাজি

মনে রাখার সূত্র: সব বাজির চুক্তি শর্তসাপেক্ষ প্রকৃতির, কিন্তু সব শর্তসাপেক্ষ চুক্তি বাজি নয়।

বিমা কেন বাজি নয়

জীবন বা অগ্নিবিমাতেও অনিশ্চিত ঘটনার ওপর অর্থ পরিশোধ নির্ভর করে। তবু বিমা বৈধ, কারণ বিমাগ্রহীতার বিমাযোগ্য স্বার্থ (insurable interest) থাকে। বাড়ির মালিক বাড়ি পুড়ে গেলে প্রকৃত ক্ষতির মুখে পড়েন; বিমা সেই ক্ষতি পূরণ করে। কিন্তু যাঁর বাড়ির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, তিনি অন্যের বাড়ি পুড়বে কি না তা নিয়ে "বিমা" করলে সেটি আসলে বাজি। বিমাযোগ্য স্বার্থের উপস্থিতি-অনুপস্থিতিই এখানে নির্ধারক।

সমস্যাভিত্তিক উদাহরণ

সমস্যা ১: রহিম করিমকে বললেন, "আগামী মাসের মধ্যে তোমার ছেলে বিদেশে চাকরি পেলে আমি তোমার দোকানঘরটি পাঁচ লাখ টাকায় কিনব।" মাস শেষে ছেলের চাকরি হয়নি। করিম কি চুক্তি বলবৎ করতে পারবেন?

সমাধান: এটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনা ঘটার শর্তে শর্তসাপেক্ষ চুক্তি। ৩৫ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পার হওয়ায় এবং ঘটনা না ঘটায় চুক্তি বাতিল; করিম বলবৎ করতে পারবেন না।

সমস্যা ২: দুই বন্ধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের ফল নিয়ে দশ হাজার টাকার বাজি ধরলেন। হেরে যাওয়া বন্ধু টাকা দিতে অস্বীকার করলেন। আরেক বন্ধু, যিনি বাজির কথা জেনে প্রথমজনকে বাজির টাকা ধার দিয়েছিলেন, সেই ধারের টাকা আদায়ে মামলা করতে চান।

সমাধান: ম্যাচের ফল নিয়ে চুক্তিটি ৩০ ধারায় বাতিল বাজির চুক্তি; বিজয়ী মামলা করে টাকা আদায় করতে পারবেন না। আর জেনেশুনে বাজির জন্য দেওয়া ধারটি ৩০ক ধারায় সহায়ক চুক্তি হিসেবে বাতিল, ফলে ৩০খ ধারা অনুযায়ী তা আদায়েও মামলা চলবে না। ভারতে Gherulal Parakh-এর যুক্তিতে ফল ভিন্ন হতে পারত, কিন্তু বাংলাদেশের আইনে উত্তর এটিই।

সাধারণ ভুল

  • শর্তসাপেক্ষ চুক্তি ও বাজির চুক্তিকে সমার্থক মনে করা।
  • ৩০ক–৩০গ ধারার কথা উল্লেখ না করে ভারতীয় নজিরকে বাংলাদেশে হুবহু প্রয়োগ করা।
  • "বাতিল" ও "বেআইনি" শব্দ দুটি একই অর্থে ব্যবহার করা। বাতিল চুক্তি আইনে বলবৎযোগ্য নয়; বেআইনি চুক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিণতিও থাকতে পারে।
  • ৩২ ও ৩৩ ধারার উল্টো শর্ত গুলিয়ে ফেলা: একটিতে ঘটনা ঘটার পর বলবৎ, অন্যটিতে ঘটনা অসম্ভব হওয়ার পর।

অনুশীলনী

নিচের প্রশ্নগুলো সিলেবাসভিত্তিক অনুশীলনী, কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা বছরের পরীক্ষার প্রশ্ন নয়:

  • শর্তসাপেক্ষ চুক্তি কী? কখন তা বলবৎযোগ্য হয়, চুক্তি আইনের ৩১–৩৬ ধারার আলোকে আলোচনা কর।
  • বাজির চুক্তির বৈশিষ্ট্য লেখ। শর্তসাপেক্ষ চুক্তির সঙ্গে এর পার্থক্য নির্ণয় কর।
  • বাংলাদেশের চুক্তি আইনের ৩০ক ধারা কীভাবে বাজি-সংক্রান্ত সহায়ক চুক্তির অবস্থান বদলেছে? আলোচনা কর।

চুক্তি আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ জানতে পড়ুন Doctrine of Frustration ও ৫৬ ধারা।

শেষ কথা

শর্তসাপেক্ষ চুক্তি বাস্তব জীবনের অনিশ্চয়তা সামাল দেওয়ার একটি বৈধ আইনি হাতিয়ার: বিমা, জামিন বা ক্ষতিপূরণের মতো চুক্তি এর ওপর দাঁড়িয়ে। বাজির চুক্তিও অনিশ্চয়তার ওপর দাঁড়ায়, কিন্তু তার উদ্দেশ্য শুধু ভাগ্যের ওপর অর্থের জয়-পরাজয়, তাই আইন সেটিকে বলবৎযোগ্যতা দেয় না। পার্থক্যটি ধরতে প্রতিটি প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করুন: ঘটনাটির সঙ্গে পক্ষগুলোর প্রকৃত স্বার্থ আছে কি, নাকি শুধু বাজির টাকাই তাদের স্বার্থ?

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)