মামলার সাক্ষী হিসেবে আদালতে ডাক পাওয়া অনেকের কাছেই উদ্বেগের বিষয়, কারণ আদালতের পরিবেশ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে অস্বস্তি স্বাভাবিক। প্রক্রিয়াটি জানা থাকলে এই উদ্বেগ অনেকটাই কমে যায়।
সমন পাওয়ার পর করণীয়
আদালত থেকে সাক্ষী হিসেবে সমন পেলে নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হওয়া আইনগত বাধ্যবাধকতা। বৈধ কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে আদালত জরিমানা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে।
শপথ গ্রহণ
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে সাক্ষীকে শপথ নিতে হয় যে তিনি যা বলবেন তা সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং সত্য ছাড়া কিছু নয়। এই শপথ সাক্ষ্য আইনের অধীনে আইনগত গুরুত্ব বহন করে।
জবানবন্দি ও জেরা
প্রথমে যে পক্ষ সাক্ষীকে ডেকেছে, সেই পক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন করে সাক্ষীর বক্তব্য (জবানবন্দি বা Examination-in-Chief) রেকর্ড করেন। এরপর বিপরীত পক্ষের আইনজীবী জেরা (Cross-Examination) করার অধিকার পান, যেখানে সাক্ষীর বক্তব্যের সত্যতা ও সামঞ্জস্য যাচাই করা হয়। জেরা এড়িয়ে যাওয়ার আইনগত সুযোগ সাধারণত থাকে না।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় যা মনে রাখা উচিত
- শুধু যা প্রত্যক্ষ করেছেন বা সরাসরি জানেন, তা-ই বলা উচিত—অনুমান বা শোনা কথা নয়।
- প্রশ্ন বুঝতে না পারলে পুনরায় ব্যাখ্যা চাওয়া যায়।
- অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না দিয়ে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত।
মিথ্যা সাক্ষ্যের শাস্তি
শপথ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বক্তব্য দিলে তা দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে।
সাক্ষীর নিরাপত্তা
স্পর্শকাতর বা গুরুতর মামলায় সাক্ষী হুমকি বা ভয়ভীতির শিকার হলে আদালতের কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার আবেদন করা যায়। বিচার বিভাগ ও তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজন অনুযায়ী সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে পারে।
একজন সৎ ও সহযোগী সাক্ষী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—তাই প্রক্রিয়াটি জানা থাকলে ভয় না পেয়ে দায়িত্বের সঙ্গে সাক্ষ্য দেওয়া সহজ হয়।

মন্তব্যসমূহ (০)