বাংলাদেশের আদালতগুলোতে মামলার জট দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে আদালতের বাইরে বিরোধ মেটানোর পদ্ধতি — বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা ADR (Alternative Dispute Resolution) — নিয়ে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। দেওয়ানি কার্যবিধিতে ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতার (মেডিয়েশন) সুযোগ রাখা হয়েছে, এবং শ্রম আইনের সাম্প্রতিক সংস্কারেও একটি পৃথক বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
ADR আসলে কী
ADR বলতে বোঝানো হয় এমন প্রক্রিয়া, যেখানে বিবদমান পক্ষগুলো প্রথাগত আদালতের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারীর সহায়তায় নিজেরাই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে। মধ্যস্থতা, সালিশ ও আপসনিষ্পত্তি — এই তিনটি সবচেয়ে পরিচিত পদ্ধতি।
কেন এটি সম্ভাবনাময়
- আদালতের তুলনায় সময় ও খরচ উভয়ই কম লাগতে পারে
- উভয়পক্ষ নিজেরাই সমাধানে অংশ নেওয়ায় সিদ্ধান্ত মেনে চলার সম্ভাবনা বেশি থাকে
- পারিবারিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার সুযোগ বেশি, কারণ প্রক্রিয়াটি কম বৈরী প্রকৃতির
বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা
তবে ADR সব ধরনের বিরোধের জন্য উপযুক্ত নয় — বিশেষ করে যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা প্রকট (যেমন কিছু শ্রম বিরোধে), সেখানে দুর্বল পক্ষ প্রকৃত সমঝোতার বদলে চাপে পড়ে আপস করতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারীর অপর্যাপ্ততা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতার অভাবও একটি বাস্তব বাধা।
সামনের পথ
ADR মামলাজট কমানোর একমাত্র সমাধান নয়, তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি বিচারব্যবস্থার উপর চাপ কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি বাস্তবসম্মত হাতিয়ার হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব আস্থা তৈরি করা।

মন্তব্যসমূহ (০)