যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর একদিনের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অভিযোগের সপক্ষে দুদকের হাতে থাকা প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।
কী দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, দুদক তার ও আরও তিনজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত মোট প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে, যেখানে গড়ে জনপ্রতি প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকার হিসাব দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই অভিযোগের সঙ্গে একজন উপদেষ্টা, সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিবের সম্পৃক্ততার কথাও বলা হচ্ছে। তার ভাষায়, "সেই প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।"
দুদকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসিফ মাহমুদ দুদককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় এই বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন, যদিও তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করেননি।
দুদকের বক্তব্য
দুদকের মুখপাত্র আখতারুল ইসলাম বুধবার বিকেলে জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে কর্মকর্তাদের বদলি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ অনুসন্ধানকারীরা পেয়েছেন। তিনি অবশ্য এটাও স্পষ্ট করেন, অনুসন্ধান পর্যায়ে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় — পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষেই দুদক পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
প্রেক্ষাপট
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর ঘোষণা দেয় — যার বিস্তারিত জানতে পড়ুন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম: সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু।
এরপর কী
এই মুহূর্তে বিষয়টি অনুসন্ধান পর্যায়ে সীমাবদ্ধ, এবং আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আদালতে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা এখনো দায়ের হয়নি। অভিযোগ ও পাল্টা-দাবির এই পর্যায়ে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)