ব্যবসায়িক লেনদেন হোক বা ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ — চেক ডিজঅনার বা বাউন্স হওয়া বাংলাদেশে অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। এই সমস্যার প্রধান আইনি সমাধান দেওয়া আছে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায়।
ধারা ১৩৮ কী বলছে
এই ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি তার ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের জন্য একটি চেক ইস্যু করেন এবং সেই চেক পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে বা অন্য কোনো কারণে ব্যাংক থেকে অপরিশোধিত অবস্থায় ফেরত আসে, তাহলে তা এই আইনের অধীনে একটি অপরাধ বলে গণ্য হয়।
মামলা করার শর্ত ও সময়সীমা
চেক ফেরত আসার পর চেক গ্রহীতাকে প্রথমে চেক ইস্যুকারীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিতে হয়। নোটিশ পাঠানো ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হলে, নোটিশ পিরিয়ড শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।
শাস্তি ও প্রতিকার
ধারা ১৩৮-এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা চেকে উল্লেখিত অর্থের সর্বোচ্চ তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন আসামি। আদালত জরিমানা আদায় করলে, আদায়কৃত অর্থ থেকে চেকে উল্লিখিত পরিমাণ পর্যন্ত অর্থ চেক গ্রহীতাকে প্রদান করার বিধানও আইনে রাখা হয়েছে।
আসামির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এই ধরনের মামলা সাধারণত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপস-নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমাধানযোগ্য হয়ে থাকে, বিশেষ করে অভিযুক্ত যদি বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে সম্মত হন। যেহেতু সর্বোচ্চ সাজা ১ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এই মামলায় সাধারণত জামিনের আবেদন করার সুযোগ থাকে — তবে প্রতিটি মামলার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে আদালত সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রতিরোধমূলক সতর্কতা
বড় অঙ্কের চেক গ্রহণের আগে ইস্যুকারীর হিসাবে পর্যাপ্ত তহবিল আছে কি না তা যাচাই করা এবং সব লেনদেনের প্রমাণ (চুক্তিপত্র, রসিদ, যোগাযোগ) সংরক্ষণ করা — এই দুটি সাধারণ সতর্কতাই ভবিষ্যতে জটিল আইনি লড়াই এড়াতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।

মন্তব্যসমূহ (০)