বিয়ের সময় কাবিননামায় নির্ধারিত দেনমোহর ইসলামি আইন অনুযায়ী স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত ও আইনগত অধিকার, যা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে দেনমোহর আংশিক বা সম্পূর্ণ অপরিশোধিত থেকে যায়। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ ও পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এক্ষেত্রে স্ত্রীর প্রতিকারের পথ নির্ধারণ করে।
দেনমোহরের ধরন
তাৎক্ষণিক (Prompt) দেনমোহর
এই অংশ বিয়ের পরপরই স্ত্রী চাইলে দাবি করতে পারেন, স্বামী তা পরিশোধ করতে বাধ্য।
বিলম্বিত (Deferred) দেনমোহর
এই অংশ সাধারণত তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর সময় পরিশোধযোগ্য হয়ে ওঠে, যদিও চুক্তিতে ভিন্ন শর্ত থাকলে তা অনুসরণ করা হয়।
কাবিননামায় কোন অংশ তাৎক্ষণিক আর কোন অংশ বিলম্বিত তা স্পষ্টভাবে লেখা থাকা উচিত, যা ভবিষ্যতে বিরোধ এড়াতে সহায়ক।
দেনমোহর না দিলে স্ত্রীর অধিকার
- দেনমোহর অপরিশোধিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থগিত রাখার অধিকার রাখেন, বিশেষত তাৎক্ষণিক অংশের ক্ষেত্রে
- দেনমোহর আদায়ের জন্য সরাসরি পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করা যায়
- তালাকের পরও দেনমোহর অনাদায়ী থাকলে পৃথক মামলার মাধ্যমে তা দাবি করা যায়
মামলা করার প্রক্রিয়া
- স্ত্রী তার এলাকার পারিবারিক আদালতে দেনমোহর আদায়ের জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন।
- কাবিননামায় উল্লেখিত দেনমোহরের পরিমাণ মূল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
- আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং প্রমাণ যাচাই করে ডিক্রি দেয়।
- স্বামী স্বেচ্ছায় পরিশোধ না করলে সাধারণ দেওয়ানি ডিক্রির মতোই তা জারি করে আদায় করা যায়।
সাধারণ প্রশ্ন
কাবিননামা হারিয়ে গেলে কী হবে
বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে কাবিননামার নকল কপি সংগ্রহ করা যায়, যা মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।
স্বামী আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলে
আর্থিক সামর্থ্য না থাকা দেনমোহর পরিশোধের আইনি দায়মুক্তি দেয় না, তবে আদালত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে পারে।
বিবাহবিচ্ছেদে ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া কীভাবে ভিন্ন হয় তা জানতে পড়ুন বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদ: ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া কীভাবে ভিন্ন হয়।

মন্তব্যসমূহ (০)