j
আইন ও বিধানের ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারা: বিশ্বাসভঙ্গজনিত অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তি

বিশ্বাসভঙ্গজনিত প্রতারণা সংক্রান্ত আইনি নথির প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি: আইন ও বিধানের ব্যাখ্যা

মূল পয়েন্ট

  • বিশ্বাসভঙ্গজনিত অপরাধ ঘটে যখন কাউকে অর্পিত সম্পদ তার নির্দেশিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার করা হয়
  • দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে
  • ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও চাকরিক্ষেত্রে এই অভিযোগ বেশি দেখা যায়
  • অভিযোগ প্রমাণে সম্পদ অর্পণ ও অসাধু উদ্দেশ্যে ব্যবহার উভয়ই দেখাতে হয়

ব্যবসায়িক অংশীদার, কর্মচারী বা পরিচিত ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে টাকা বা সম্পদ দেওয়ার পর তা যদি অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা বিশ্বাসভঙ্গজনিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় এই অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust) কী

দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারায় এই অপরাধের সংজ্ঞা দেওয়া আছে—কাউকে কোনো সম্পদ বা তার ওপর নিয়ন্ত্রণ অর্পণ করা হলে এবং সেই ব্যক্তি যদি তা আইনানুগ চুক্তি বা নির্দেশনার বাইরে গিয়ে অসাধুভাবে নিজের ব্যবহারে লাগান বা আত্মসাৎ করেন, তাহলে তা বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়। এরপর ৪০৬ ধারায় এই অপরাধের সাধারণ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদাহরণসহ ব্যাখ্যা

  • ব্যবসায়িক অংশীদারকে বিনিয়োগের জন্য টাকা দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করলেন।
  • কোনো কর্মচারীকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি অংশবিশেষ আত্মসাৎ করলেন।
  • জমি বিক্রির জন্য কাউকে ক্ষমতা অর্পণ (Power of Attorney) দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্বার্থে জমি হস্তান্তর করলেন।

শাস্তির বিধান

৪০৬ ধারা অনুযায়ী বিশ্বাসভঙ্গের সাধারণ শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে যদি অপরাধটি কোনো সরকারি কর্মচারী, ব্যাংকার বা ট্রাস্টি কর্তৃক সংঘটিত হয়, তাহলে দণ্ডবিধির পরবর্তী ধারাগুলোতে (যেমন ৪০৯ ধারা) আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণে যা দেখাতে হয়

  1. অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট সম্পদ বা দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল।
  2. সেই অর্পণের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট শর্ত বা উদ্দেশ্য যুক্ত ছিল।
  3. অভিযুক্ত সেই শর্ত ভঙ্গ করে অসাধু উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যবহার বা আত্মসাৎ করেছেন।

দেওয়ানি প্রতিকারও চাওয়া যায়

বিশ্বাসভঙ্গের ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি টাকা ফেরত পেতে দেওয়ানি মামলাও করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার চাপ ব্যবহার করে দেওয়ানি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়, তবে ফৌজদারি অভিযোগ শুধু চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মিথ্যাভাবে আনা হলে তা নিজেই আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ব্যবসায়িক লেনদেন বা দায়িত্ব অর্পণের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি রাখা এবং শর্ত স্পষ্ট করে রাখা—বিশ্বাসভঙ্গজনিত বিরোধ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর পূর্বসতর্কতা।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)