j
আন্তর্জাতিক আইন

জার্মানির বিরুদ্ধে নিকারাগুয়ার গণহত্যা-সহায়তার অভিযোগ: আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানি শুরু

আন্তর্জাতিক আদালত ও বৈশ্বিক আইনি প্রতীকী দৃশ্য
প্রতীকী ছবি: আন্তর্জাতিক আইন

মূল পয়েন্ট

  • ৭-১০ সেপ্টেম্বর হেগে চলছে নিকারাগুয়া বনাম জার্মানি মামলার শুনানি
  • জার্মানি ইসরায়েলকে সহায়তার মাধ্যমে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ এনেছে নিকারাগুয়া
  • জার্মানি বলছে অভিযোগ আইসিজের এখতিয়ারের বাইরে, ইসরায়েল মামলার পক্ষভুক্ত নয়
  • এই পর্যায়ে কেবল এখতিয়ারগত প্রশ্নে সিদ্ধান্ত হবে, মূল অভিযোগের বিচার নয়

ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ড সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে জার্মানির বিরুদ্ধে নিকারাগুয়ার দায়ের করা মামলায় জার্মানির উত্থাপিত প্রাথমিক আপত্তির (preliminary objections) ওপর শুনানি শুরু করেছে আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে হেগে শুরু হওয়া এই শুনানি চলবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত।

নিকারাগুয়ার অভিযোগ কী

নিকারাগুয়ার দাবি, ইসরায়েলকে রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (আনরোয়া)-র অর্থায়ন বন্ধ করে জার্মানি গণহত্যা সংঘটনে সহায়তা করছে, অথবা অন্তত গণহত্যা প্রতিরোধে যা যা করা সম্ভব তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি নিকারাগুয়ার আনীত একটি অভিযোগ মাত্র — আদালত এখনো এর সত্যতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

জার্মানির প্রাথমিক আপত্তি

জার্মানি আদালতে দাবি করেছে, মামলা দায়েরের আগে নিকারাগুয়া প্রয়োজনীয় পূর্বশর্ত পালন করেনি এবং অভিযোগের একটি বড় অংশ গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে। জার্মানির প্রধান আইনজীবী জুলিয়া মোনার যুক্তি দেন, জার্মানির দায় নির্ধারণ করতে হলে প্রথমে ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে — অথচ ইসরায়েল এই মামলার পক্ষভুক্ত নয় এবং আদালতের এখতিয়ার মেনে নেয়নি।

শুনানির সূচি ও পরবর্তী ধাপ

সোমবার জার্মানি তার বক্তব্য উপস্থাপনের পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জবাব দেয় নিকারাগুয়া, এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ দ্বিতীয় দফা যুক্তি উপস্থাপন করবে। চার দিনের এই শুনানি শেষে বিচারকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন জার্মানির আপত্তির ভিত্তিতে মামলাটি খারিজ হবে কি না। এ ধরনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আসতে সাধারণত গড়ে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে।

কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ

এই মামলা আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে — কোনো রাষ্ট্র অন্য একটি রাষ্ট্রকে অস্ত্র বা আর্থিক সহায়তা দিলে, তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যায় সহায়তার দায়ে সেই রাষ্ট্রকেও কি আন্তর্জাতিক আইনে দায়ী করা যায়? আইসিজে যদি জার্মানির আপত্তি খারিজ করে মূল মামলার বিচারে অগ্রসর হয়, তাহলে তা অস্ত্র রপ্তানিকারী রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক আইনি দায় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। তবে এই পর্যায়ে আদালত কেবল এখতিয়ারগত প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে — মূল অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এটি স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি।

শেয়ার করুন:
Editorial Desk

Editorial Desk

BDLawsDaily Editorial Desk বাংলাদেশের আইন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ, সংসদীয় কার্যক্রম, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আইন সংশোধনী সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করে।

মন্তব্যসমূহ (০)