বাংলাদেশে যৌতুক আজও পারিবারিক সহিংসতার একটি বড় কারণ। এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রণীত যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো — শুধু যৌতুক দেওয়া-নেওয়া নয়, যৌতুক দাবি করাটাই এখন স্বতন্ত্রভাবে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তা সত্যিকারের কোনো লেনদেন ঘটুক বা না ঘটুক।
যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ কী
এই আইনটি বিবাহের সময়, বিবাহের পূর্বে অথবা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান নিরোধের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ বিয়ের আগে, বিয়ের সময় কিংবা বিয়ের পরে যেকোনো পর্যায়ে যৌতুক সংক্রান্ত লেনদেন এই আইনের আওতায় পড়ে।
যৌতুক দাবির শাস্তি: ধারা ৩
আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, বিবাহের কোনো এক পক্ষ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিবাহের অপর পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করেন, তাহলে তা এই আইনের অধীনে একটি অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর, তবে অন্যূন ১ বছরের কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হতে পারে।
কেন এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ
বাস্তবে যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতা প্রায়শই শুরু হয় দাবি জানানো থেকেই — টাকা বা সম্পত্তি হাতবদল হওয়ার আগেই। ধারা ৩ শুধু দাবি করাকেই স্বতন্ত্র অপরাধ ঘোষণা করায়, প্রকৃত লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করেই আইনি প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী বা তার পরিবার কী করতে পারেন
- নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা
- যৌতুক দাবির প্রমাণ (এসএমএস, কথোপকথন, সাক্ষী) সংরক্ষণ করা
- জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (নালসাস)-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নেওয়া
- ব্লাস্ট বা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর মতো মানবাধিকার সংগঠনের পরামর্শ নেওয়া
মনে রাখা জরুরি
যৌতুক সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আইনি ফলাফল নির্ধারিত হয়। তাই ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে একজন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনগত সহায়তা সংস্থার পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এই আইনের মূল বার্তা হলো — বিয়ের আগে বা পরে কেউ যৌতুক দাবি করলে তা চুপচাপ মেনে নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, বরং তা প্রতিরোধ করার আইনি অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)