j
LLB

LLB-তে ঐচ্ছিক (elective) বিষয় কীভাবে বেছে নেবেন?

তিন দিকে নির্দেশ করা রঙিন সাইনপোস্টের সামনে কোর্স বাছাই নিয়ে ভাবছে একজন আইন শিক্ষার্থী—কার্টুন চিত্র
প্রতীকী ছবি: LLB

মূল পয়েন্ট

  • ঐচ্ছিক কোর্স বাছাইয়ের সুযোগ ও তালিকা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হয়
  • সম্ভাব্য ক্যারিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রেখে কোর্স বাছাই করলে সিভি ও প্রস্তুতি দুটোই শক্তিশালী হয়
  • শুধু 'সহজ নম্বর' পাওয়ার আশায় কোর্স বাছাই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে
  • বাছাইয়ের আগে কোর্স আউটলাইন দেখা ও সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা জানা কাজে দেয়

LLB প্রোগ্রামের বেশিরভাগ কোর্স বাধ্যতামূলক—চুক্তি, সংবিধান, দণ্ডবিধি, কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে শেষ দিকের সেমিস্টার বা বর্ষে, কিছু ঐচ্ছিক বা elective কোর্স বাছাইয়ের সুযোগ থাকে। কোথাও তালিকা ছোট, কোথাও বেশ বৈচিত্র্যময়: ব্যাংকিং আইন, মেধাস্বত্ব, পরিবেশ আইন, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন, সাইবার আইন, অপরাধবিজ্ঞান ইত্যাদি। কোন কোর্স কোন সেমিস্টারে ঐচ্ছিক, তা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসের ওপর নির্ভর করে।

এই সিদ্ধান্ত অনেকে নেন বন্ধুরা কী নিচ্ছে বা কোনটায় নম্বর সহজ তা দেখে। কিন্তু ঐচ্ছিক কোর্স আপনার একাডেমিক প্রোফাইলের একটি অংশ, যা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষায় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রথমে নিজের প্রোগ্রামের কাঠামো জানুন

  • কোন সেমিস্টারে কয়টি ঐচ্ছিক কোর্স নিতে হবে?
  • কোনো কোর্সের পূর্বশর্ত (prerequisite) আছে কি?
  • প্রতিটি কোর্সে আসন সীমিত কি না, আর বাছাই কীভাবে হয়?
  • একবার বাছাইয়ের পর পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি?
  • কোনো কোর্সে "major" বা বিশেষায়নের স্বীকৃতি মেলে কি না?

এসব তথ্য বিভাগের অফিস, একাডেমিক উপদেষ্টা বা সিলেবাস নির্দেশিকা থেকে নিশ্চিত হোন। সিলেবাসের সামগ্রিক ধারণা পাবেন এলএলবি সিলেবাসে কোন কোন বিষয় পড়তে হয় লেখায়।

বাছাইয়ের পাঁচটি মানদণ্ড

১. সম্ভাব্য ক্যারিয়ার লক্ষ্য

এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও একটি দিকনির্দেশনা থাকলে সুবিধা হয়।

সম্ভাব্য লক্ষ্যউপযোগী হতে পারে এমন ঐচ্ছিক বিষয়
করপোরেট বা ব্যাংকিং খাতব্যাংকিং আইন, কোম্পানি ও সিকিউরিটিজ আইন, কর আইন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন
ফৌজদারি আদালতে প্র্যাকটিসঅপরাধবিজ্ঞান, ফরেনসিক বা সাক্ষ্য সংক্রান্ত বিশেষায়িত কোর্স
মানবাধিকার বা উন্নয়ন খাতমানবাধিকার আইন, নারী ও শিশু অধিকার, শরণার্থী আইন
টেক বা স্টার্টআপ খাতসাইবার আইন, মেধাস্বত্ব, ডেটা সুরক্ষা সংক্রান্ত কোর্স
জুডিশিয়াল সার্ভিসমূল আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোর্স, যা পরীক্ষার সিলেবাস শক্ত করে

এই সারণি শুধু দিকনির্দেশনা। কোনো একটি কোর্স না নিলে কোনো ক্যারিয়ারের দরজা বন্ধ হয় না। আইন পড়ে কী কী ক্যারিয়ার আছে, তা নিয়ে আছে আইন পড়ে ক্যারিয়ার: আইনজীবী ছাড়াও যেসব পেশার সুযোগ আছে লেখায়।

২. LLM বা উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা

ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে LLM করার ইচ্ছা থাকলে LLB-তেই সে বিষয়ের ঐচ্ছিক কোর্স নেওয়া ভালো ভিত্তি তৈরি করে। Statement of Purpose-এ বিষয়টির প্রতি আগ্রহ দেখাতেও এটি কাজে আসে। দেখুন এলএলএমে কোন বিশেষায়িত বিষয় বেছে নেওয়া উপযোগী।

৩. প্রকৃত আগ্রহ

যে বিষয় পড়তে ভালো লাগে, সেখানে পরিশ্রমও স্বাভাবিক মনে হয়, ফলও ভালো হয়। আগ্রহ বোঝার একটি উপায় হলো বাধ্যতামূলক কোর্সগুলোর মধ্যে কোন অংশ পড়তে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন, তা মনে করা।

৪. কোর্সের বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন পদ্ধতি

একই নামের কোর্স বিভিন্ন শিক্ষকের হাতে ভিন্ন রকম হতে পারে। কোর্স আউটলাইন দেখুন: কী পড়ানো হবে, মূল্যায়ন কীভাবে (লিখিত পরীক্ষা, গবেষণাপত্র, প্রেজেন্টেশন), কোন বই অনুসরণ করা হবে। গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়ন পছন্দ করলে সেই ধরনের কোর্স বেছে নিতে পারেন।

৫. বার কাউন্সিল ও অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে সংযোগ

বার কাউন্সিল তালিকাভুক্তি পরীক্ষার সিলেবাস মূলত বাধ্যতামূলক বিষয়গুলো থেকে আসে, যেমন দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, তামাদি আইন এবং পেশাগত আচরণবিধি। তাই ঐচ্ছিক কোর্সের ফলে বার পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাধারণত বড় পার্থক্য হয় না। তবে ঐচ্ছিক কোর্সের চাপে মূল বিষয়গুলো যেন অবহেলিত না হয়, সেটি খেয়াল রাখা জরুরি।

যে কারণে বাছাই করা উচিত নয়

  • শুধু সহজ নম্বরের আশায়: "সহজ কোর্স" ধারণা প্রায়ই সিনিয়রদের এক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আসে, যা পরের বছর বদলে যেতে পারে।
  • শুধু বন্ধুদের সঙ্গে থাকার জন্য: সামাজিক কারণ গুরুত্বপূর্ণ, তবে ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্তে প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত নয়।
  • শুধু নাম শুনে: "আন্তর্জাতিক" বা "সাইবার" শুনতে আকর্ষণীয়, কিন্তু বিষয়বস্তু আগে দেখে নিন।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবহারিক ধাপ

  1. সম্ভাব্য সব ঐচ্ছিক কোর্সের তালিকা ও আউটলাইন সংগ্রহ করুন।
  2. প্রতিটির পাশে লিখুন: ক্যারিয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক, আগ্রহের মাত্রা, মূল্যায়ন পদ্ধতি।
  3. সেই কোর্স আগে নিয়েছেন এমন দু-একজন সিনিয়রের সঙ্গে কথা বলুন। তবে তাঁদের মতকে চূড়ান্ত না ধরে একটি তথ্য হিসেবে নিন।
  4. একাডেমিক উপদেষ্টা বা কোর্স শিক্ষকের পরামর্শ নিন।
  5. সিদ্ধান্তের পর কোর্সটিকে পূর্ণ মনোযোগ দিন।

ঐচ্ছিক কোর্সকে প্রোফাইলে কাজে লাগানো

ঐচ্ছিক কোর্সে ভালো একটি গবেষণাপত্র বা প্রেজেন্টেশন পরে ইন্টার্নশিপ বা চাকরির আবেদনে লেখার নমুনা হিসেবে কাজে লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুট কোর্ট, সেমিনার বা কর্মশালায় অংশ নিলে আগ্রহের ধারাবাহিক প্রমাণ তৈরি হয়। CV-তে এই সংযোগগুলো দেখানোই আসল সুবিধা।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ঐচ্ছিক কোর্স কি চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা উচিত?

পদের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হলে অবশ্যই। যেমন করপোরেট পদে ব্যাংকিং বা কোম্পানি আইনের কোর্স CV-র শিক্ষা অংশে উল্লেখ করা যায়।

একটি ঐচ্ছিক কোর্স নিয়ে ভালো না লাগলে কি বদলানো যায়?

অনেক প্রতিষ্ঠানে সেমিস্টারের শুরুতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্স যোগ-বাদের (add/drop) সুযোগ থাকে। সময়সীমা পার হলে সাধারণত বদলানো কঠিন, তাই শুরুর সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত নিন।

সব ঐচ্ছিক কোর্স একই ক্ষেত্র থেকে নেওয়া ভালো, নাকি বৈচিত্র্য রাখা?

লক্ষ্য স্পষ্ট হলে একটি ক্ষেত্রে গভীরতা সুবিধা দেয়। লক্ষ্য অনিশ্চিত হলে দুই-একটি ভিন্ন ক্ষেত্রের কোর্স নিয়ে আগ্রহ যাচাই করা যুক্তিসংগত।

শেষ কথা

ঐচ্ছিক কোর্স বাছাই ছোট সিদ্ধান্ত মনে হলেও এটি নিজের পছন্দমতো আইন শিক্ষাকে সাজানোর একটি বিরল সুযোগ। ক্যারিয়ার ভাবনা, প্রকৃত আগ্রহ আর কোর্সের মান—এই তিনটির ভারসাম্য রেখে সিদ্ধান্ত নিলে কোর্সটি শুধু একটি গ্রেড নয়, একটি দক্ষতা হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)