কর্মজীবী নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি শুধু একটি সুবিধা নয়, এটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ স্বীকৃত সুরক্ষিত অধিকার। তবে বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে এই অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাবে নারী শ্রমিকরা প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ
শ্রম আইন অনুযায়ী একজন নারী শ্রমিক মোট ১৬ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়ার অধিকারী—আট সপ্তাহ সন্তান জন্মদানের পূর্বে এবং আট সপ্তাহ জন্মদানের পরে। এই ছুটি প্রতিটি সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে আইনে সাধারণত দুইটি জীবিত সন্তান পর্যন্ত এই সুবিধা প্রযোজ্য হওয়ার বিধান রয়েছে।
ছুটিকালীন বেতন পাওয়ার শর্ত
মাতৃত্বকালীন সুবিধা (বেতনসহ ছুটি) পেতে হলে সংশ্লিষ্ট নারী শ্রমিককে প্রসবের পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অন্তত ছয় মাস চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করতে হয়। এই শর্ত পূরণ হলে তিনি ছুটিকালীন সময়ে তার গড় মজুরির সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার অধিকারী।
চাকরির সুরক্ষা
আইন অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় কোনো নারী শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা যায় না। এমনকি ছুটি শুরুর আগে বা চলাকালীন সময়েও গর্ভাবস্থার কারণে চাকরিচ্যুতি বেআইনি বলে গণ্য হয়। ছুটি শেষে তিনি পূর্বের পদেই বা সমমর্যাদার পদে পুনর্বহাল হওয়ার অধিকার রাখেন।
মালিকপক্ষের দায়িত্ব
- গর্ভবতী নারী শ্রমিককে ঝুঁকিপূর্ণ বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজে বাধ্য না করা।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাতৃত্বকালীন সুবিধার অর্থ পরিশোধ করা।
- ছুটি শেষে কর্মস্থলে পুনর্বহাল নিশ্চিত করা।
অধিকার লঙ্ঘিত হলে করণীয়
নিয়োগকর্তা যদি মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুবিধা দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রথমে প্রতিষ্ঠানের শ্রম কল্যাণ কর্মকর্তা বা শ্রম পরিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। সমাধান না হলে শ্রম আদালতে মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে, যেখানে বকেয়া সুবিধা আদায়ের পাশাপাশি বেআইনি চাকরিচ্যুতির প্রতিকারও চাওয়া যায়।
মাতৃত্বকালীন ছুটি সম্পর্কিত অধিকার জানা থাকলে নারী শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে সহজে প্রতিবাদ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিতে পারেন।

মন্তব্যসমূহ (০)