সরকারি অর্থে ভ্রমণের বিল জমাদানে স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ৩ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া এই বিশেষ পরিপত্রের বিস্তারিত বিষয়বস্তু মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশ পায়।
সাত দফায় কী আছে
- বিলের সঙ্গে স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত মূল কপি এবং প্রাসঙ্গিক সহায়ক কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
- বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত সার-সংক্ষেপের কপি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যাদেশের কপি জমা দিতে হবে।
- যাতায়াত ব্যয়ে টিকিটে প্রকৃত ভাড়ার পরিমাণ উল্লেখ থাকতে হবে; আকাশপথে ভ্রমণে বোর্ডিং পাস ও অনুমোদিত ভ্রমণসূচি সংযুক্ত করতে হবে।
- হোটেল ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে মূল রসিদ বা কপি জমা দিতে হবে।
- বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় হলে বিনিময় হারের বিস্তারিত তথ্য বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
- অন্যান্য বাড়তি ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ভাউচার বা সমর্থক প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
- অনুমোদিত সময়ের বাইরে বাড়তি সময় ভ্রমণ করলে তার জন্য পৃথকভাবে নতুন অনুমোদন নিতে হবে — বাড়তি সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ গণ্য হবে না।
বিল জমা দিতে হবে স্বাক্ষরযুক্ত ও যথাযথভাবে সত্যায়িত ফটোকপিসহ মোট তিন সেট।
কেন এই নির্দেশনা
সরকারি অর্থে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে। নথিপত্রের অপ্রতুলতা বা অসম্পূর্ণতার কারণে ভ্রমণ বিল যাচাইয়ে জটিলতা এড়াতেই এই সুনির্দিষ্ট চেকলিস্ট-ভিত্তিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। বিশেষত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমোদনের কপি সংযুক্তির শর্ত সরকারি ব্যয়ে কেন্দ্রীয় জবাবদিহি জোরদারের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এর প্রভাব
নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে ভবিষ্যতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ভ্রমণ বিল যাচাই আরও নথিনির্ভর ও প্রক্রিয়াগতভাবে কঠোর হবে। বিশেষত অনুমোদিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ভ্রমণের জন্য পৃথক অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার শর্তটি সরকারি ভ্রমণ-সংক্রান্ত অনিয়ম রোধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ (০)