নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে গঠিত হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ গত আড়াই মাসে ১৭টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল — উভয় ধরনের মামলাই অগ্রাধিকার দিয়ে শুনছে।
যেসব বহুল আলোচিত মামলার রায় হয়েছে
এই ১৭টি রায়ের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি বহুল আলোচিত মামলা — পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, শরীয়তপুরের স্কুলছাত্রী রিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা এবং পিরোজপুরের ঝর্ণা হত্যা মামলা। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়, যেখানে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে এবং চারজনের সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়েছে।
নুসরাত হত্যা মামলার প্রেক্ষাপট
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানার রায় দেন। মামলার নথি আপিল বিভাগীয় পর্যালোচনার জন্য ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করেন।
কেন এই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ
নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো সাধারণত বছরের পর বছর ধরে আদালতে ঝুলে থাকে, যা ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোনার এই উদ্যোগ ন্যায়বিচার দ্রুততর করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ। একসঙ্গে ১৭টি মামলার নিষ্পত্তি এই ধরনের মামলাজট কমানোর দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
- গত আড়াই মাসে বিশেষ বেঞ্চ ১৭টি নারী-শিশু নির্যাতন মামলার রায় দিয়েছে
- নুসরাত হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের সাজা কমে যাবজ্জীবন
- পল্লবীর রামিসা ও শরীয়তপুরের রিমা হত্যা মামলাসহ একাধিক আলোচিত মামলার রায় হয়েছে
- ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোনা হচ্ছে
মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায়ও এই একই বেঞ্চ থেকে ৩১ আগস্ট ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আদালতের এই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।

মন্তব্যসমূহ (০)