j
হাইকোর্ট বিভাগ

অভিনেতা রিয়াজের আগাম জামিনের আবেদন ফিরিয়ে দিল হাইকোর্ট, কার্যতালিকা থেকে বাদ

হাইকোর্টের এজলাস ও আইনি নথির প্রতীকী দৃশ্য, আগাম জামিন আবেদন সম্পর্কিত
প্রতীকী ছবি: হাইকোর্ট বিভাগ

মূল পয়েন্ট

  • চিত্রনায়ক রিয়াজের দুটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন জামিন না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন হাইকোর্ট
  • যাত্রাবাড়ী ও শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলা দুটি জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত
  • বিচারপতি কে এম জহির সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ শুনানি করেন
  • আবেদন প্রত্যাখ্যান নয়, বরং কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল

জুলাই ২০২৫ গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত পৃথক দুটি মামলায় চিত্রনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিকীর করা আগাম জামিনের আবেদন জামিন না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জহির সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

কী ঘটেছে

যাত্রাবাড়ী ও শাহবাগ থানায় পৃথকভাবে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় রিয়াজের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময়কার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এই দুই মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত আবেদনকারীর পক্ষে জামিন মঞ্জুর করেননি, বরং দুটি আবেদনই ফিরিয়ে দিয়ে কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

কবে ও কোথায় ঘটেছে

শুনানিটি অনুষ্ঠিত হয় ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দিষ্ট বেঞ্চে। রিয়াজের পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মঞ্জুরুল আলম সুজন।

আদালতের বক্তব্য

শুনানি শেষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মঞ্জুরুল আলম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, আদালত জামিন মঞ্জুর করেননি; বরং দুটি আবেদনই ফিরিয়ে দিয়ে কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আদালতের এই সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকলেও, এর ব্যবহারিক তাৎপর্য হলো — আবেদনকারী এই মুহূর্তে হাইকোর্ট থেকে সুরক্ষা পাচ্ছেন না এবং মামলা দুটিতে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত ঝুঁকি অব্যাহত থাকছে।

আইনি প্রেক্ষাপট: আগাম জামিন কীভাবে কাজ করে

বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধিতে সরাসরি "আগাম জামিন" নামে আলাদা কোনো ধারা নেই। তবে হাইকোর্ট বিভাগ তার সাংবিধানিক ও অন্তর্নিহিত (inherent) ক্ষমতাবলে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিচারিক নজিরের (case law) মাধ্যমে আগাম জামিন মঞ্জুর করে থাকে, যাতে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় থাকা কোনো ব্যক্তি আদালতে গিয়ে সাময়িক সুরক্ষা চাইতে পারেন। তবে এই সুরক্ষা কারও নিরঙ্কুশ অধিকার নয়; মামলার প্রকৃতি, অভিযোগের গুরুত্ব এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আদালত আবেদন মঞ্জুর, নাকচ বা ফিরিয়ে দিতে পারেন। আবেদন "ফিরিয়ে দেওয়া" বা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং সরাসরি "নাকচ" করার মধ্যে ফারাক আছে — ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ সাধারণত মামলার মূল যোগ্যতা বিচার না করেই পদ্ধতিগত কারণে আবেদনটি এই মুহূর্তে বিবেচনা না করা, যেখানে নাকচের অর্থ আদালত মামলার যোগ্যতা বিবেচনা করে সুরক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পেলে হাইকোর্টে জামিন আবেদনের সাধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন নিম্ন আদালতে জামিন না পেলে হাইকোর্টে কীভাবে জামিন আবেদন করবেন।

এর প্রভাব কী

এই সিদ্ধান্তের ফলে রিয়াজ আপাতত হাইকোর্ট থেকে সুরক্ষা পাচ্ছেন না। তিনি চাইলে সংশোধিত বা নতুন আবেদন নিয়ে পুনরায় হাইকোর্টে যেতে পারেন, অথবা সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে পারেন। জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জামিন আবেদন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ দেশজুড়ে এ ধরনের মামলায় আরও অনেকের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, আগাম জামিনের আবেদন করার আগে একজন অভিযুক্তের জন্য মামলার প্রকৃতি ও জামিনযোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। জামিনযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধের পার্থক্য জানতে পড়ুন জামিনযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধ: বাংলাদেশে জামিনের নিয়ম কীভাবে কাজ করে।

শেয়ার করুন:
Editorial Desk

Editorial Desk

BDLawsDaily Editorial Desk বাংলাদেশের আইন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ, সংসদীয় কার্যক্রম, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আইন সংশোধনী সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করে।

মন্তব্যসমূহ (০)