j
LLB

Rule against Perpetuity কী? সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১৪ ধারার আলোকে চিরস্থায়িত্ববিরোধী নিয়ম ব্যাখ্যা কর

বংশপরম্পরার গাছ, ঘড়ি ও জমির দলিলের প্রতীকী কার্টুন চিত্র
প্রতীকী ছবি: LLB

মূল পয়েন্ট

  • কোনো হস্তান্তর এমন স্বার্থ সৃষ্টি করতে পারে না, যা হস্তান্তরের সময় জীবিত এক বা একাধিক ব্যক্তির জীবনকাল এবং তারপর একজনের নাবালকত্বকাল পেরিয়ে কার্যকর হবে
  • অজাত ব্যক্তির অনুকূলে হস্তান্তর ১৩ ধারায় সম্ভব, তবে আগে জীবিত ব্যক্তির স্বার্থ থাকতে হয় এবং অজাত ব্যক্তিকে অবশিষ্ট পুরো স্বার্থ দিতে হয়
  • আয় সঞ্চয়ের নির্দেশ ১৭ ধারায় সীমিত; জনকল্যাণমূলক হস্তান্তর ১৮ ধারায় এই নিয়মের ব্যতিক্রম
  • নিয়মের উদ্দেশ্য সম্পত্তিকে দীর্ঘকাল অহস্তান্তরযোগ্য করে আটকে রাখা ঠেকানো

একজন ধনী জমিদার চাইলেন, তাঁর সম্পত্তি তাঁর পরিবারে চিরকাল থাকবে: প্রথমে ছেলে ভোগ করবে, তারপর নাতি, তারপর প্রপৌত্র, এভাবে অনন্তকাল, আর কেউ কখনো তা বিক্রি করতে পারবে না। শুনতে পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষার উদ্যোগ মনে হলেও আইনের চোখে এটি সমস্যাজনক। এতে সম্পত্তি বাজার থেকে চিরতরে বেরিয়ে যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা পায় না এবং মৃত মানুষের ইচ্ছা জীবিতদের ওপর শতাব্দীর পর শতাব্দী চেপে থাকে। এই প্রবণতা ঠেকাতেই আইনে রয়েছে চিরস্থায়িত্ববিরোধী নিয়ম বা rule against perpetuity।

বাংলাদেশে এই নিয়মের মূল বিধান সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ১৪ ধারা। এলএলবির সম্পত্তি আইনের পরীক্ষায় এটি একটি প্রচলিত প্রশ্ন, যেখানে সাধারণত ১৩ ধারার সঙ্গে মিলিয়ে উত্তর চাওয়া হয়।

Perpetuity বলতে কী বোঝায়

আইনের ভাষায় perpetuity দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রথমত, এমন ব্যবস্থা, যেখানে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা দীর্ঘকাল বা চিরকালের জন্য কেড়ে নেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, এমন স্বার্থ সৃষ্টি, যা অনেক দূর ভবিষ্যতে, অনির্দিষ্ট সময় পরে কার্যকর হবে। দুটির ফলই এক: সম্পত্তি বহু বছর ধরে অনিশ্চয়তায় আটকে থাকে, কেউ তা স্বাধীনভাবে ভোগ বা হস্তান্তর করতে পারে না।

নিয়মের উদ্দেশ্য

  • সম্পত্তির অবাধ হস্তান্তরযোগ্যতা রক্ষা: সম্পত্তি আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো সম্পত্তি স্বাধীনভাবে হস্তান্তরযোগ্য থাকা উচিত।
  • অর্থনৈতিক উন্নয়ন: আটকে থাকা সম্পত্তির উন্নয়ন, বিনিয়োগ বা উৎপাদনশীল ব্যবহার হয় না।
  • জীবিতদের অধিকার: মৃত ব্যক্তির ইচ্ছা যেন জীবিত প্রজন্মের সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকারকে অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
  • পাওনাদারের স্বার্থ: সম্পত্তি আটকে রাখলে পাওনাদারেরা তা থেকে দাবি আদায় করতে পারেন না।

১৪ ধারার মূল বক্তব্য

কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর এমন কোনো স্বার্থ সৃষ্টি করতে পারবে না, যা হস্তান্তরের তারিখে জীবিত এক বা একাধিক ব্যক্তির জীবনকাল এবং সেই সময়কাল শেষে অস্তিত্বে থাকবে এমন কোনো ব্যক্তির নাবালকত্বকাল পেরিয়ে কার্যকর হবে, এবং যাকে, সে সাবালক হলে, সৃষ্ট স্বার্থটি দেওয়া হবে।

সর্বোচ্চ অপেক্ষার সময়কাল

অর্থাৎ বৈধ অপেক্ষার সর্বোচ্চ সময় হলো:

  1. হস্তান্তরের সময় জীবিত এক বা একাধিক ব্যক্তির জীবনকাল, যোগ
  2. চূড়ান্ত সুবিধাভোগীর নাবালকত্বকাল, যিনি প্রথম সময়কাল শেষ হওয়ার সময় অস্তিত্বে আছেন বা মাতৃগর্ভে আছেন।

গর্ভকালীন সময়কেও আদালতের ব্যাখ্যায় অনুমোদিত সময়ের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়, কারণ মাতৃগর্ভে থাকা শিশুকে আইন অস্তিত্বশীল হিসেবে বিবেচনা করে। এই সময়ের বাইরে কার্যকর হবে এমন যেকোনো স্বার্থ বাতিল।

লক্ষণীয় বিষয়

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, নিয়মটি স্বার্থ "অর্পিত" (vest) হওয়ার সময় নিয়ে, ভোগদখলের সময় নিয়ে নয়। স্বার্থটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্পিত হলে, ভোগ পরে শুরু হলেও নিয়ম লঙ্ঘিত হয় না। আবার নিয়ম প্রযোজ্য কেবল জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে হস্তান্তরে; উইল বা অসিয়তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকার আইনের সমতুল্য বিধান প্রাসঙ্গিক।

১৩ ধারা: অজাত ব্যক্তির অনুকূলে হস্তান্তর

১৪ ধারা বুঝতে হলে ১৩ ধারা জানা জরুরি, কারণ বেশির ভাগ চিরস্থায়িত্বের সমস্যা দেখা দেয় অজাত ব্যক্তির জন্য সম্পত্তি দিতে গিয়ে। ১৩ ধারা অনুযায়ী, হস্তান্তরের দিন অস্তিত্বহীন কোনো ব্যক্তির অনুকূলে স্বার্থ সৃষ্টি করা যায়, তবে দুটি শর্তে:

  • অজাত ব্যক্তির স্বার্থের আগে অবশ্যই হস্তান্তরের সময় জীবিত কোনো ব্যক্তির অনুকূলে পূর্ববর্তী স্বার্থ সৃষ্টি করতে হবে, কারণ সম্পত্তি সরাসরি অজাত ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা যায় না।
  • অজাত ব্যক্তিকে দিতে হবে হস্তান্তরকারীর অবশিষ্ট পুরো স্বার্থ; তাকে কেবল জীবনস্বত্ব দেওয়া যাবে না।

উদাহরণ

ক তাঁর জমি খ-কে জীবনস্বত্বে দিলেন, তারপর খ-এর অজাত প্রথম পুত্রকে পূর্ণ মালিকানায়। এটি বৈধ, কারণ আগে জীবিত খ-এর স্বার্থ আছে এবং অজাত পুত্র পুরো অবশিষ্ট স্বার্থ পাচ্ছে। কিন্তু ক যদি লিখতেন, "খ-এর অজাত পুত্র জীবনস্বত্বে পাবে, তারপর সেই পুত্রের পুত্র পূর্ণ মালিকানায়", তাহলে অজাত পুত্রকে কেবল জীবনস্বত্ব দেওয়ায় ১৩ ধারা লঙ্ঘিত হয়, আর পরবর্তী স্বার্থ ১৪ ধারার সময়সীমাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা

১৫ ধারা: শ্রেণির অনুকূলে হস্তান্তর

কোনো শ্রেণির ব্যক্তিদের অনুকূলে হস্তান্তর হলে এবং তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে ১৩ বা ১৪ ধারার কারণে স্বার্থ ব্যর্থ হলে, কেবল সেই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই হস্তান্তর ব্যর্থ হয়, পুরো শ্রেণির ক্ষেত্রে নয়।

১৬ ধারা: পূর্ববর্তী স্বার্থ ব্যর্থ হলে পরবর্তী স্বার্থ

কোনো হস্তান্তরে সৃষ্ট স্বার্থ ১৩ বা ১৪ ধারার কারণে ব্যর্থ হলে, সেই ব্যর্থ স্বার্থের পরে বা তার ব্যর্থতার শর্তে সৃষ্ট পরবর্তী স্বার্থও ব্যর্থ হয়।

১৭ ধারা: আয় সঞ্চয়ের নির্দেশ

সম্পত্তির আয় জমিয়ে রাখার নির্দেশ হস্তান্তরকারীর জীবনকাল অথবা হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১৮ বছর, এর মধ্যে যেটি দীর্ঘ, তার বেশি সময়ের জন্য কার্যকর নয়। তবে ঋণ পরিশোধ, নাবালকের ভরণপোষণ বা সম্পত্তি সংরক্ষণের মতো কিছু উদ্দেশ্যে ব্যতিক্রম আছে।

১৮ ধারা: জনকল্যাণের ব্যতিক্রম

ধর্ম, জ্ঞান, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা মানবজাতির জন্য উপকারী অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জনসাধারণের কল্যাণে করা হস্তান্তরে ১৪ ও ১৬ ধারার বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়। তাই জনকল্যাণমূলক ট্রাস্ট বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দীর্ঘকাল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে আটকে রাখা যায়। মুসলিম আইনের ওয়াক্‌ফও স্থায়ী প্রকৃতির, যা আলাদা আইনে নিয়ন্ত্রিত।

সম্পর্কিত নীতি: হস্তান্তরে নিরঙ্কুশ নিষেধাজ্ঞা (১০ ও ১১ ধারা)

চিরস্থায়িত্ববিরোধী নিয়মের পাশাপাশি সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে আরও দুটি ধারা একই দর্শন প্রকাশ করে। ১০ ধারা অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় যদি এমন শর্ত দেওয়া হয় যে গ্রহীতা কখনো ওই সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন না, তবে সেই শর্ত বাতিল; হস্তান্তর বহাল থাকে, কিন্তু নিরঙ্কুশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় না। তবে ইজারার ক্ষেত্রে ইজারাদারের সুবিধার্থে কিছু শর্ত এবং বিবাহিত নারীর সম্পত্তিসংক্রান্ত নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রয়েছে। ১১ ধারা বলে, কাউকে নিরঙ্কুশ স্বার্থ দেওয়ার পর সেই স্বার্থ ভোগের পদ্ধতিতে বিরোধী শর্ত আরোপ করা যায় না। অর্থাৎ ১০ ও ১১ ধারা বর্তমান মালিকের হাত বাঁধা ঠেকায়, আর ১৪ ধারা ভবিষ্যতের অনির্দিষ্ট অপেক্ষা ঠেকায়। পরীক্ষায় এই তিনটি ধারাকে "সম্পত্তির অবাধ হস্তান্তরযোগ্যতা" নীতির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করলে উত্তর বিশ্লেষণধর্মী হয়।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশে মুসলিম পরিবারে উত্তরাধিকার মূলত ব্যক্তিগত আইনে নিয়ন্ত্রিত এবং অসিয়তের সীমা এক-তৃতীয়াংশ, ফলে দীর্ঘ প্রজন্মব্যাপী সম্পত্তি আটকে রাখার সুযোগ এমনিতেই সীমিত। তবু জীবিত অবস্থায় দানপত্র, পারিবারিক ট্রাস্ট বা শর্তযুক্ত হেবার মাধ্যমে নাতি-নাতনিদের জন্য সম্পত্তি সংরক্ষণের চেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়। এসব দলিল লেখার সময় চিরস্থায়িত্ববিরোধী নিয়ম ও ১৩ ধারা মেনে না চললে পুরো ব্যবস্থাটি পরে আদালতে বাতিল হতে পারে এবং পরিবারে দীর্ঘ বিরোধ তৈরি হয়।

যা চিরস্থায়িত্ববিরোধী নিয়মের আওতায় পড়ে না

  • বন্ধক: বন্ধকগ্রহীতার অধিকার নতুন স্বার্থ সৃষ্টি নয়, ঋণের জামানত।
  • ইজারা নবায়নের চুক্তি: সাধারণভাবে এটি ব্যক্তিগত চুক্তিভিত্তিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত।
  • অগ্রক্রয়ের অধিকার: এটি আইন দ্বারা সৃষ্ট অধিকার, হস্তান্তরের মাধ্যমে নয়।
  • ইতিমধ্যে অর্পিত স্বার্থ: যে স্বার্থ হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গেই অর্পিত, তার ভোগ পরে হলেও নিয়মটি প্রযোজ্য নয়।

বিক্রয়, বন্ধক ও ইজারার মৌলিক পার্থক্য জানতে দেখুন Sale, Mortgage ও Lease-এর পার্থক্য।

ইংলিশ আইনের সঙ্গে পার্থক্য

ঐতিহ্যগত ইংলিশ কমন ল-তে অনুমোদিত সময় ছিল জীবিত ব্যক্তির জীবনকাল যোগ ২১ বছর, গর্ভকালসহ। বাংলাদেশের ১৪ ধারায় ২১ বছরের নির্দিষ্ট অঙ্কের বদলে আছে চূড়ান্ত সুবিধাভোগীর নাবালকত্বকাল, যা সাবালকত্ব আইন অনুযায়ী সাধারণত ১৮ বছর পর্যন্ত। আরও একটি পার্থক্য হলো, ইংল্যান্ডে পরবর্তী সময়ে আইন সংস্কারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বছরের সীমা ও "অপেক্ষা করে দেখো" নীতি চালু হয়েছে, যা বাংলাদেশের আইনে নেই। পরীক্ষায় এই তুলনা উল্লেখ করলে উত্তর সমৃদ্ধ হয়।

একটি সমস্যাভিত্তিক উদাহরণ

প্রশ্ন: রহমান সাহেব একটি নিবন্ধিত দানপত্রে তাঁর বাড়ি এভাবে দিলেন: "আমার ছেলে করিম জীবদ্দশায় ভোগ করবে; তারপর করিমের যে সন্তান ২৫ বছর বয়সে পৌঁছাবে, সে পূর্ণ মালিকানা পাবে।" দানের সময় করিমের কোনো সন্তান নেই। হস্তান্তরটি কি বৈধ?

উত্তর: করিম জীবিত, তাঁর জীবনস্বত্ব বৈধ। করিমের অজাত সন্তানের অনুকূলে হস্তান্তর ১৩ ধারায় সম্ভব, কারণ আগে জীবিত ব্যক্তির স্বার্থ আছে এবং সন্তানকে পূর্ণ মালিকানা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যা ১৪ ধারায়: স্বার্থ অর্পিত হবে সন্তান ২৫ বছর হলে। করিমের মৃত্যুর পর সন্তানের নাবালকত্ব শেষ হয় ১৮ বছরে; ২৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা অনুমোদিত সময় ছাড়িয়ে যায়। তাই সন্তানের অনুকূলে হস্তান্তর বাতিল। যদি শর্তটি হতো "সন্তান ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে", তাহলে তা বৈধ হতো।

দ্রুত রিভিশনের জন্য সারসংক্ষেপ

  • ১৩ ধারা: অজাত ব্যক্তিকে সরাসরি নয়, আগে জীবিত ব্যক্তির স্বার্থের পর; এবং অবশিষ্ট পুরো স্বার্থ।
  • ১৪ ধারা: জীবিত ব্যক্তিদের জীবনকাল যোগ চূড়ান্ত সুবিধাভোগীর নাবালকত্বকাল; এর বাইরে অর্পণ বাতিল।
  • ১৫ ধারা: শ্রেণির কিছু সদস্যের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা কেবল তাদের ক্ষেত্রেই।
  • ১৬ ধারা: ব্যর্থ স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল পরবর্তী স্বার্থও ব্যর্থ।
  • ১৭ ধারা: আয় সঞ্চয়ের সীমা।
  • ১৮ ধারা: জনকল্যাণমূলক হস্তান্তর ব্যতিক্রম।

শিক্ষার্থীদের সাধারণ ভুল

  • ইংলিশ আইনের "২১ বছর" বাংলাদেশের নিয়ম হিসেবে লেখা।
  • অর্পণ ও ভোগদখলের পার্থক্য উপেক্ষা করা।
  • ১৩ ধারার "অবশিষ্ট পুরো স্বার্থ" শর্ত বাদ দেওয়া।
  • ১৮ ধারার জনকল্যাণমূলক ব্যতিক্রম উল্লেখ না করা।

পরীক্ষায় উত্তর লেখার কাঠামো

  1. ভূমিকা: চিরস্থায়িত্বের অর্থ ও সমস্যা।
  2. নিয়মের উদ্দেশ্য।
  3. ১৪ ধারার বক্তব্য ও সর্বোচ্চ সময়কাল।
  4. ১৩ ধারার সঙ্গে সম্পর্ক, উদাহরণসহ।
  5. ১৫ থেকে ১৮ ধারা।
  6. যেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
  7. ইংলিশ আইনের সঙ্গে তুলনা, সমস্যাভিত্তিক উদাহরণ ও উপসংহার।

দ্বিতীয় একটি উদাহরণ: বৈধ ব্যবস্থা কীভাবে সাজানো যায়

একই উদ্দেশ্য আইনসম্মতভাবে পূরণ করতে রহমান সাহেব লিখতে পারতেন: "আমার ছেলে করিম জীবদ্দশায় ভোগ করবে; তার মৃত্যুর পর করিমের সন্তানেরা সমান অংশে পূর্ণ মালিকানা পাবে, তবে কোনো সন্তান নাবালক থাকলে সাবালক হওয়া পর্যন্ত তার অংশ একজন ট্রাস্টি তত্ত্বাবধান করবেন।" এখানে সন্তানদের স্বার্থ করিমের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই অর্পিত হয়, কেবল নাবালকদের ভোগ তত্ত্বাবধানে থাকে। ফলে ১৪ ধারা লঙ্ঘিত হয় না। দলিলের ভাষার সামান্য পরিবর্তন কীভাবে বৈধতা নির্ধারণ করে, এটি তার ভালো উদাহরণ। ট্রাস্টের ধারণা জানতে পড়ুন Trust-এর সংজ্ঞা ও অপরিহার্য উপাদান।

এই ছক মনে রাখলে সমস্যাভিত্তিক প্রশ্নেও কোন ধারা প্রযোজ্য, তা দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হয় এবং উত্তর গোছানো থাকে।

উপসংহার

চিরস্থায়িত্ববিরোধী নিয়ম ব্যক্তির সম্পত্তি দান করার স্বাধীনতা এবং সমাজের স্বার্থে সম্পত্তির অবাধ হস্তান্তরযোগ্যতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। মানুষ তার উত্তরসূরিদের জন্য ব্যবস্থা করতে পারে, কিন্তু অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের জন্য সম্পত্তিকে শিকলবন্দি করতে পারে না। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের অন্যান্য মতবাদ জানতে পড়ুন Doctrine of Lis Pendens।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)