কোনো শিশু বা কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার বিচার প্রাপ্তবয়স্ক আসামির মতো একই প্রক্রিয়ায় হয় না। শিশু আইন, ২০১৩ শিশুদের জন্য আলাদা ও সংবেদনশীল বিচার ব্যবস্থার বিধান রেখেছে।
শিশু কে, আইনগত সংজ্ঞা
শিশু আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী যেকোনো ব্যক্তিকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। কোনো শিশু অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও তাকে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের সঙ্গে একই হাজতে বা কারাগারে রাখা যায় না।
শিশু আদালত কীভাবে কাজ করে
আইন অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় শিশু আদালত গঠন বা নির্দিষ্ট আদালতকে শিশু আদালত হিসেবে ঘোষণার বিধান রয়েছে। এই আদালতের পরিবেশ সাধারণ আদালতের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম ভীতিকর রাখার চেষ্টা করা হয়, এবং বিচারক শিশু-সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হন।
বিচার প্রক্রিয়ায় বিশেষ সুরক্ষা
- শিশুর পরিচয় ও ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।
- বিচারকালে অভিভাবক বা আইনগত প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
- মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ে করার চেষ্টা করা হয়, যাতে শিশু দীর্ঘদিন বিচারাধীন অবস্থায় না থাকে।
শাস্তির বদলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা
শিশু আদালতের মূল লক্ষ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং শিশুর সংশোধন ও সমাজে পুনর্বাসন। এ কারণে কারাদণ্ডের বদলে প্রবেশন, নিরাপদ হেফাজতকেন্দ্রে (Safe Home বা Child Development Centre) রাখা বা কাউন্সেলিংয়ের মতো বিকল্প ব্যবস্থা অগ্রাধিকার পায়।
ভুক্তভোগী পক্ষের অধিকার
শিশু অপরাধী হলেও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার খর্ব হয় না। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ শিশু আদালতে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারেন।
শিশু আইন মনে করে, একটি শিশুকে শুরুতেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্য বেশি কল্যাণকর।

মন্তব্যসমূহ (০)