আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের পাশাপাশি অনেক আইন শিক্ষার্থীরই লক্ষ্য থাকে বিচারক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া। বাংলাদেশে অধস্তন আদালতে বিচারক নিয়োগের প্রধান পথ হলো বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) কর্তৃক আয়োজিত বিজেএস পরীক্ষা।
মৌলিক যোগ্যতা
- স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) বা সমমানের আইন ডিগ্রি অর্জন
- বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া
- ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত না হওয়া এবং চারিত্রিকভাবে নির্ভরযোগ্য হওয়া
পরীক্ষার তিনটি ধাপ
ধাপ ১: প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষা
১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী প্রশ্নের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৫০ নম্বর পেতে হয়। এই ধাপে পাস করলেই পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ মেলে।
ধাপ ২: লিখিত পরীক্ষা
প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১০০০ নম্বরের একটি বিস্তারিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, যেখানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন, সাক্ষ্য আইন, রচনা ও সাধারণ জ্ঞানসহ একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ধাপ ৩: মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের শেষ ধাপে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়, যেখানে আইনি জ্ঞান, বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও ব্যক্তিত্ব যাচাই করা হয়।
শুরুর পদবি
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সহকারী জজ বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অধস্তন আদালতে যোগদান করেন — যা বিচার বিভাগে ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপ।
প্রস্তুতির জন্য যা মনে রাখা জরুরি
যেহেতু লিখিত পরীক্ষার নম্বরভার সবচেয়ে বেশি, তাই দেওয়ানি কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি ও সাক্ষ্য আইনের মৌলিক ধারাগুলো গভীরভাবে বোঝা জরুরি। পাশাপাশি প্রতিটি নিয়োগ চক্রে সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে, তাই আবেদনের আগে বিজেএসসির সরকারি সার্কুলার ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস এবং বিচারক হিসেবে ক্যারিয়ার — দুটোই আইন ডিগ্রিধারীদের জন্য পৃথক কিন্তু সমান সম্মানজনক পথ। কোন পথে যাবেন, তা নির্ভর করে ব্যক্তিগত আগ্রহ ও প্রস্তুতির ধরনের উপর।

মন্তব্যসমূহ (০)