কোনো অপরাধের শিকার হলে আইনি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ সাধারণত থানায় এজাহার বা এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) দায়ের করা। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা এই প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি।
এজাহার কে দায়ের করতে পারেন
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে, তার পরিবারের সদস্য, অথবা ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বা ঘটনা সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত এমন যেকোনো সুস্থ ও সচেতন ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে থানার অফিসার-ইনচার্জের কাছে এজাহার দায়ের করতে পারেন।
এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী, ঘটনার তথ্য মৌখিক বা লিখিত যেভাবেই দেওয়া হোক, থানার অফিসার-ইনচার্জ বা তার নির্দেশে অন্য কোনো কর্মকর্তা তা নির্ধারিত রেজিস্টার বইতে (বিপি ফরম নং ২৭) লিপিবদ্ধ করেন।
এজাহারে যা উল্লেখ থাকা জরুরি
- ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান
- ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, যতটা সম্ভব সুনির্দিষ্টভাবে
- জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় (জানা থাকলে)
- সাক্ষী থাকলে তাদের তথ্য
পুলিশ এজাহার নিতে অস্বীকার করলে
থানা এজাহার নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো যায়। এছাড়া সরাসরি আদালতে অভিযোগ দায়েরের সুযোগও আইনে রাখা হয়েছে।
এজাহার বনাম জিডি
একটি ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে এজাহার দায়ের হয়, যা থেকে সরাসরি মামলা শুরু হয়। অন্যদিকে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) সাধারণত তথ্য নথিভুক্ত রাখার জন্য করা হয়, যেমন কোনো জিনিস হারানোর ঘটনা — যেখানে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ নেই।
এজাহার দায়েরের সময় সুনির্দিষ্ট ও সত্য তথ্য দেওয়া জরুরি, কারণ পরবর্তী পুরো তদন্ত ও মামলার ভিত্তি তৈরি হয় এই প্রাথমিক বিবরণী থেকেই।

মন্তব্যসমূহ (০)