বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকায় এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রণীত হয়েছে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭, যা পুরোনো বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯-কে প্রতিস্থাপন করেছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য নির্ধারিত বয়সের নিচে বিয়ে প্রতিরোধ করা।
আইনি বয়সসীমা কত
বাংলাদেশে বিবাহের জন্য আইনগত সর্বনিম্ন বয়স ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর। এই বয়সের নিচে কোনো বিয়ে সম্পন্ন হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য।
কারা শাস্তির আওতায় পড়তে পারেন
- বাল্যবিবাহে সরাসরি অংশগ্রহণকারী প্রাপ্তবয়স্ক পক্ষ
- বিয়ে আয়োজনকারী বা অনুমতি দেওয়া অভিভাবক
- বিয়ে সম্পাদনকারী কাজী বা অনুরূপ ব্যক্তি
- বাল্যবিবাহ আয়োজনে সহায়তাকারী যেকোনো ব্যক্তি
আইনে জরিমানা ও কারাদণ্ড উভয় ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট মাত্রা অপরাধের প্রকৃতি ও জড়িত ব্যক্তির ভূমিকা অনুযায়ী ভিন্ন হয়।
বিতর্কিত 'বিশেষ বিধান' কী বলে
২০১৭ সালের এই আইনে একটি ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত ধারা রয়েছে, যাকে সাধারণত 'বিশেষ বিধান' বলা হয়। এই বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে — যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা আদালতের বিবেচনায় সন্তানের 'বৃহত্তর স্বার্থ' জড়িত এমন ক্ষেত্রে — অভিভাবকের সম্মতি ও আদালতের অনুমতিক্রমে ন্যূনতম বয়সের নিচেও বিয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও শিশু অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধারাটির সমালোচনা করে আসছেন, কারণ এটি বাল্যবিবাহ নিরোধের মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা
- ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন বাল্যবিবাহ বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারেন
- জন্মনিবন্ধন সনদ ও বয়স প্রমাণের কাগজপত্র যাচাই করে কাজীকে বিয়ে নিবন্ধনে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে
- বাল্যবিবাহের খবর পেলে স্থানীয় প্রশাসন বা হেল্পলাইনে জানানো যায়
যা জানা জরুরি
বাল্যবিবাহ শুধু আইনি অপরাধই নয়, এটি মেয়েশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিবেশী, শিক্ষক বা পরিবারের সদস্য হিসেবে কেউ বাল্যবিবাহের আয়োজন লক্ষ্য করলে তা প্রশাসনকে জানানো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব।
শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশুর আইনি অধিকার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন শিশু আইন, ২০১৩: শিশুর আইনি অধিকার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা।

মন্তব্যসমূহ (০)