j
মানবাধিকার

গুমের নতুন সংজ্ঞা: গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘণ্টার বেশি গোপন আটক রাখলেই তা 'গুম' বলে গণ্য হবে — প্রধান কৌঁসুলি

গুম প্রতিরোধ আইনের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার ও আইনি নথির প্রতীকী দৃশ্য
প্রতীকী ছবি: মানবাধিকার

মূল পয়েন্ট

  • গ্রেপ্তারের পর আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া ২৪ ঘণ্টার বেশি গোপন আটক রাখলে তা 'গুম' হিসেবে গণ্য হবে
  • ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে এই ব্যাখ্যা দেন প্রধান কৌঁসুলি
  • প্রতিটি রিপোর্ট হওয়া গুমের অভিযোগ পর্যালোচনা করে বিচারের এখতিয়ার নির্ধারণ করা হবে
  • আইন প্রয়োগের বিস্তারিত বিধিমালা এখনো প্রকাশ পায়নি

গ্রেপ্তারের পর আইনি সহায়তা ছাড়া কাউকে ২৪ ঘণ্টার বেশি গোপনে আটকে রাখা হলে তা এখন থেকে "গুম" হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সদ্য পাস হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।

কী বলেছেন প্রধান কৌঁসুলি

আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারের পর আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া কাউকে গোপনে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা হলে সেই সময়টুকু "গুম" হিসেবে গণ্য হবে। তিনি গুম প্রতিরোধ আইনকে একটি মাইলফলক আখ্যা দিয়ে বলেন, এখন থেকে দেশে প্রতিটি রিপোর্ট হওয়া গুমের অভিযোগ পর্যালোচনা করে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাকি পৃথক সাধারণ ফৌজদারি প্রক্রিয়ায় বিচার হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

আইনি প্রেক্ষাপট

গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন — এই দুটি বিল পাস হয়। এর আগে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিল দুটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিয়েছিল, যা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে বিতর্কও হয়েছিল। বিস্তারিত প্রেক্ষাপট জানতে পড়ুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ও গুম প্রতিরোধ বিল নিয়ে সংসদীয় বিতর্ক। নতুন আইনে গুমকে একটি পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে তদন্ত, বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকারের একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কেন এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত আটক ও গুমের অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। এত দিন "গুম" শব্দটির কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা না থাকায় এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ বা বিচার করা কঠিন হতো। প্রধান কৌঁসুলির এই ব্যাখ্যা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে গ্রেপ্তারের পর কাউকে দীর্ঘ সময় গোপনে রাখলে তা একটি নির্দিষ্ট আইনি মানদণ্ডের আওতায় আসবে — যা তদন্তকারী সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও একটি স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করবে।

এরপর কী

নতুন আইনের অধীনে গুমসংক্রান্ত অভিযোগ কীভাবে যাচাই ও তদন্ত করা হবে, তার বিস্তারিত বিধিমালা বা কার্যপ্রণালী এখনো প্রকাশ পায়নি। প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্য অনুযায়ী রিপোর্ট হওয়া প্রতিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করে মামলাভেদে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নাকি সাধারণ আদালতে যাবে, তা পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত হবে। আইনটি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এটি সত্যিকার অর্থে গুম প্রতিরোধে কতটা কার্যকর হয়।

শেয়ার করুন:
Editorial Desk

Editorial Desk

BDLawsDaily Editorial Desk বাংলাদেশের আইন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ, সংসদীয় কার্যক্রম, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আইন সংশোধনী সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করে।

মন্তব্যসমূহ (০)