বাংলাদেশে আইনজীবী পেশাকে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করার দায়িত্বে থাকা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা দেশের আইন পেশার মান নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।
বার কাউন্সিলের মূল দায়িত্ব
আইনজীবী তালিকাভুক্তি
আইন স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) সনদ প্রদান করা বার কাউন্সিলের অন্যতম প্রধান কাজ।
পেশাগত আচরণবিধি প্রণয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষা
আইনজীবীদের জন্য পেশাগত আচরণবিধি নির্ধারণ এবং কোনো আইনজীবী তা লঙ্ঘন করলে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ারও বার কাউন্সিলের রয়েছে।
আইন শিক্ষার মান তদারকি
দেশের আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যক্রম ও মান তদারকিতেও বার কাউন্সিলের ভূমিকা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ আইনজীবীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে পেশায় প্রবেশ করেন।
সাংগঠনিক কাঠামো
বার কাউন্সিলের নেতৃত্বে থাকেন একজন চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান, এবং এতে বিভিন্ন জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন। এই গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে সারাদেশের আইনজীবী সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়।
বার কাউন্সিল বনাম বার অ্যাসোসিয়েশন
অনেকে বার কাউন্সিল ও বার অ্যাসোসিয়েশনকে একই মনে করেন, কিন্তু এ দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বার কাউন্সিল সারাদেশের আইনজীবী পেশার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, অন্যদিকে প্রতিটি জেলা বা আদালত এলাকায় থাকা বার অ্যাসোসিয়েশন হলো স্থানীয় পর্যায়ে আইনজীবীদের পেশাগত সংগঠন।
একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
কোনো ব্যক্তি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার আগে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে তার তালিকাভুক্তি যাচাই করে নিতে পারেন, যা প্রতারণা এড়াতে সহায়ক। কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ থাকলে তাও বার কাউন্সিলে অভিযোগ আকারে জানানো যায়।
আইনজীবীদের জন্য প্রযোজ্য পেশাগত আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধি: বার কাউন্সিলের নিয়মকানুন।

মন্তব্যসমূহ (০)