একটি মামলার ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক আইনজীবী নির্বাচনের ওপর। তবে আবেগতাড়িত অবস্থায় বা তাড়াহুড়ো করে আইনজীবী নিয়োগ দিলে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই আইনজীবী নির্বাচনের আগে কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।
বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি যাচাই করুন
প্রথমেই নিশ্চিত হওয়া দরকার, যিনি আইনি পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত (এনরোলড) আইনজীবী কি না। তালিকাভুক্তি নম্বর চেয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে যাচাই করা নিরাপদ।
বিশেষায়ণ ও অভিজ্ঞতা
সব আইনজীবী সব ধরনের মামলায় সমান দক্ষ নন। ফৌজদারি, দেওয়ানি, পারিবারিক, জমি-সংক্রান্ত বা কোম্পানি আইন — প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী। আপনার সমস্যার ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করা আইনজীবী খোঁজা উচিত।
ফি কাঠামো আগেই স্পষ্ট করে নিন
আইনজীবীর ফি নির্দিষ্ট কোনো নির্ধারিত হার অনুসরণ করে না — তা নির্ভর করে মামলার জটিলতা, আইনজীবীর অভিজ্ঞতা ও অবস্থানের ওপর। শুরুতেই মোট আনুমানিক খরচ, কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ আছে কি না এবং আদালতের অতিরিক্ত খরচ (কোর্ট ফি, নথি খরচ ইত্যাদি) কে বহন করবে তা স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া উচিত।
যোগাযোগ ও স্বচ্ছতা
- মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত ও স্পষ্টভাবে জানানোর মানসিকতা আছে কি না
- প্রশ্ন করলে ধৈর্য ধরে বোধগম্য ভাষায় উত্তর দেন কি না
- বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা দেন, নাকি অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি দেন — অতিরঞ্জিত নিশ্চয়তা দেওয়া আইনজীবী সম্পর্কে সতর্ক থাকা ভালো
প্রাথমিক পরামর্শে যা যাচাই করবেন
প্রথম সাক্ষাতে মামলার সম্ভাব্য শক্তি-দুর্বলতা, বিকল্প সমাধানের সুযোগ (যেমন মধ্যস্থতা) এবং আনুমানিক সময়সীমা সম্পর্কে আইনজীবীর মতামত নেওয়া উচিত। একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করে তুলনা করাও অযৌক্তিক নয়।
আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের আগে কী কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আইনজীবীর কাছে যাওয়ার আগে যা প্রস্তুত রাখা উচিত।

মন্তব্যসমূহ (০)