আইন পেশায় প্রবেশের প্রথম ধাপ হলো এলএলবি (Bachelor of Laws) ডিগ্রি অর্জন করা। বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই ডিগ্রি পড়ানো হয়, তবে প্রোগ্রামের ধরন ও মেয়াদ প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।
এলএলবি প্রোগ্রামের ধরন
অনার্স (৪ বছর মেয়াদি)
এইচএসসি পাসের পর সরাসরি ভর্তি হয়ে চার বছর মেয়াদি এলএলবি অনার্স প্রোগ্রাম করা যায় — এটিই বর্তমানে সবচেয়ে প্রচলিত ধারা, যা অধিকাংশ পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু আছে।
পাস কোর্স (২ বছর মেয়াদি)
কিছু প্রতিষ্ঠানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য দুই বছর মেয়াদি এলএলবি পাস কোর্সও চালু আছে, যদিও এর প্রাপ্যতা প্রতিষ্ঠানভেদে সীমিত হতে পারে।
সাধারণ পাঠ্যক্রমে যা পড়ানো হয়
- সংবিধান ও প্রশাসনিক আইন
- ফৌজদারি আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধি
- দেওয়ানি আইন ও দেওয়ানি কার্যবিধি
- চুক্তি আইন ও সম্পত্তি হস্তান্তর আইন
- পারিবারিক আইন (মুসলিম, হিন্দু ও অন্যান্য ব্যক্তিগত আইন)
- কোম্পানি আইন ও বাণিজ্যিক আইন
- আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার
এলএলবি শেষে ক্যারিয়ারের পথ
এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পরপরই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনজীবী হয়ে যান না — আদালতে অনুশীলনের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। তবে এলএলবি ডিগ্রিধারীদের জন্য আরও অনেক পথ খোলা থাকে — যেমন বিচার বিভাগীয় চাকরি (বিজেএস), কর্পোরেট আইন উপদেষ্টা, সরকারি প্রশাসনিক চাকরি, শিক্ষকতা বা মানবাধিকার সংগঠনে কাজ করা।
ভর্তির যোগ্যতা সম্পর্কে সাধারণ কথা
প্রতিষ্ঠানভেদে ভর্তির যোগ্যতা, ভর্তি পরীক্ষার ধরন ও আসনসংখ্যা ভিন্ন হয়ে থাকে এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সুনির্দিষ্ট জিপিএ শর্ত বা ফি জানতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তির সাধারণ যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন আইন বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া।

মন্তব্যসমূহ (০)