এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর অনেকেই আইনের কোনো নির্দিষ্ট শাখায় গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য এলএলএম (Master of Laws) করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্যারিয়ার পথে এলএলএম উল্লেখযোগ্য সুবিধা এনে দিতে পারে।
এলএলএম কেন করবেন
- আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, বাণিজ্যিক আইন বা সাংবিধানিক আইনের মতো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন
- শিক্ষকতা বা গবেষণা পেশায় যেতে চাইলে এলএলএম প্রায়োজনীয় যোগ্যতা
- আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হওয়া
- নিজের আইন পেশায় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন
কোথায় করা যায়
বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএম প্রোগ্রাম চালু আছে, সাধারণত এক বছর মেয়াদি (কিছু প্রতিষ্ঠানে সান্ধ্যকালীন বা দুই বছর মেয়াদি প্রোগ্রামও থাকতে পারে)। এছাড়া অনেকে বিদেশেও — বিশেষত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএম করতে যান, যা আন্তর্জাতিক আইন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে সহায়ক হতে পারে।
জনপ্রিয় বিশেষায়ণের ক্ষেত্র
- আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতি
- মানবাধিকার আইন
- বাণিজ্যিক ও কর্পোরেট আইন
- সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আইন
- পরিবেশ আইন
- তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার আইন
এলএলএম কি আইনজীবী হওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক?
না। বাংলাদেশে আদালতে অনুশীলনের জন্য এলএলবি ডিগ্রি ও বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই যথেষ্ট। এলএলএম মূলত অতিরিক্ত বিশেষায়ণ, একাডেমিক ক্যারিয়ার বা নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সুযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিবেচ্য বিষয়
এলএলএম করার আগে নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য স্পষ্ট করা জরুরি — লিটিগেশন-কেন্দ্রিক প্র্যাকটিসে এলএলএম ততটা অপরিহার্য নয়, যতটা একাডেমিয়া, গবেষণা বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। প্রোগ্রামের খরচ, সময় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
আইন পড়ে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিকল্প পথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আইন পড়ে ক্যারিয়ারের বিকল্প পথ।

মন্তব্যসমূহ (০)