ব্যবসা যত ছোটই হোক, একটি নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক একটি ব্র্যান্ড নাম বা লোগোকে আইনি সুরক্ষা দেয় এবং অন্য কাউকে একই বা বিভ্রান্তিকর মিল থাকা চিহ্ন ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখার আইনি ভিত্তি তৈরি করে। বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের দায়িত্বে আছে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)।
ট্রেডমার্ক কেন নিবন্ধন করবেন
নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক না থাকলে কেউ আপনার ব্র্যান্ড নাম বা লোগোর মতো চিহ্ন ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নিবন্ধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার শ্রেণিতে চিহ্নটি ব্যবহারের একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
নিবন্ধনের ধাপসমূহ
- প্রাথমিক অনুসন্ধান: একই বা সদৃশ কোনো ট্রেডমার্ক আগে থেকে নিবন্ধিত আছে কি না তা যাচাই করা।
- আবেদন দাখিল: ডিপিডিটি-তে লোগো/নামের বিবরণ, আবেদনকারীর তথ্য এবং নাইস শ্রেণীবিন্যাস (Nice Classification) অনুযায়ী পণ্য বা সেবার শ্রেণি উল্লেখ করে আবেদন জমা দেওয়া।
- রেজিস্ট্রার কর্তৃক পরীক্ষা: আবেদনটি ডিপিডিটির রেজিস্ট্রার পরীক্ষা করে দেখেন।
- আপত্তির জবাব: কোনো আপত্তি উত্থাপিত হলে তার জবাব দিতে হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (সাধারণত ৬০ দিন)।
- প্রকাশনা: প্রকাশনা ফি পরিশোধের পর ট্রেডমার্কটি ট্রেডমার্ক জার্নালে প্রকাশিত হয়, যার বিপরীতে ২ মাসের একটি আপত্তি জানানোর সময়সীমা থাকে।
- নিবন্ধন সনদ ইস্যু: নির্ধারিত সময়ে কোনো আপত্তি না এলে নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়।
প্রয়োজনীয় তথ্য ও আনুমানিক খরচ
আবেদনের জন্য সাধারণত প্রয়োজন হয় লোগো বা ওয়ার্ডমার্কের স্পষ্ট প্রতিলিপি, আবেদনকারীর নাম-ঠিকানা-জাতীয়তা ও ব্যবসার ধরন এবং নির্দিষ্ট পণ্য/সেবার শ্রেণি। প্রতিটি শ্রেণির জন্য পৃথক আবেদন করতে হয় এবং প্রতিটির জন্য পৃথক সরকারি ফি প্রযোজ্য — একক শ্রেণির আবেদনের মোট সরকারি ফি (দাখিল, পরীক্ষা ও প্রকাশনা ফি মিলিয়ে) প্রায় ৩৫০ মার্কিন ডলারের সমতুল্য হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়; তবে সঠিক ও হালনাগাদ ফি জানতে ডিপিডিটির নিজস্ব ফি তালিকা যাচাই করা উচিত।
সময়সীমা
কোনো আপত্তি বা বিরোধিতা ছাড়া একটি আবেদন সম্পন্ন হতে সাধারণত ৭ মাসের মতো সময় লাগে, তবে আপত্তি বা বিরোধিতা এলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১৮ মাস পর্যন্তও সময় লাগতে পারে।
মনে রাখা জরুরি বিষয়
- একাধিক শ্রেণিতে সুরক্ষা প্রয়োজন হলে প্রতিটির জন্য পৃথক আবেদন করতে হয়
- নিবন্ধনের পর নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নবায়ন করতে হয় — মেয়াদ ও নবায়ন ফি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের জন্য ডিপিডিটির ওয়েবসাইট দেখা উচিত
- ব্র্যান্ড ব্যাপকভাবে বাজারজাত করার আগেই নিবন্ধনের আবেদন করে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ ট্রেডমার্ক ব্যবস্থাপনায় সাধারণত আগে আবেদনকারীই অগ্রাধিকার পান
ছোট উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠান — সবার জন্যই ব্র্যান্ড পরিচিতি সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো ট্রেডমার্ক নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তুলনামূলক কম খরচের বিনিয়োগ।

মন্তব্যসমূহ (০)