j
মেধাস্বত্ব আইন

পেটেন্ট কী এবং বাংলাদেশে উদ্ভাবনের আইনগত সুরক্ষা কীভাবে পাবেন

উদ্ভাবন নকশা ও নিবন্ধন নথির প্রতীকী দৃশ্য পেটেন্ট সুরক্ষা বোঝাতে
প্রতীকী ছবি: মেধাস্বত্ব আইন

মূল পয়েন্ট

  • পেটেন্ট পেতে হলে উদ্ভাবনটি নতুন, উদ্ভাবনী গুণসম্পন্ন ও শিল্পে প্রয়োগযোগ্য হতে হয়
  • বাংলাদেশে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (DPDT) পেটেন্ট নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকে
  • পেটেন্ট নিবন্ধিত হলে উদ্ভাবক নির্দিষ্ট মেয়াদে একচেটিয়া বাণিজ্যিক ব্যবহারের অধিকার পান
  • পেটেন্ট আবেদনের আগে প্রকাশ্যে উদ্ভাবনের তথ্য প্রকাশ করলে নতুনত্বের শর্ত ব্যাহত হতে পারে

নতুন কোনো যন্ত্র, প্রযুক্তি বা প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করার পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অন্য কেউ তা নকল করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়া। এই ঝুঁকি থেকে উদ্ভাবককে আইনগত সুরক্ষা দেয় পেটেন্ট। বাংলাদেশে উদ্ভাবনের পেটেন্ট সুরক্ষা নিয়ন্ত্রিত হয় পেটেন্ট আইনের অধীনে, যা পরিচালিত হয় পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের (DPDT) মাধ্যমে।

পেটেন্ট কী এবং কেন প্রয়োজন

পেটেন্ট হলো রাষ্ট্র কর্তৃক উদ্ভাবককে দেওয়া একটি আইনগত অধিকার, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য উদ্ভাবনটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রি করার একচেটিয়া অধিকার উদ্ভাবক পান। বিনিময়ে উদ্ভাবককে তার উদ্ভাবনের প্রযুক্তিগত বিবরণ সরকারি নথিতে প্রকাশ করতে হয়, যা ভবিষ্যতে অন্যদের গবেষণায় সহায়ক হয়।

পেটেন্ট পেতে কী শর্ত পূরণ করতে হয়

  • নতুনত্ব: উদ্ভাবনটি বিশ্বের কোথাও পূর্বে প্রকাশিত বা ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারবে না
  • উদ্ভাবনী গুণ: এটি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের একজন দক্ষ ব্যক্তির কাছে সহজবোধ্য বা প্রত্যাশিত হওয়া চলবে না
  • শিল্পে প্রয়োগযোগ্যতা: উদ্ভাবনটি বাস্তবে শিল্প বা উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে

নিছক ধারণা, বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা গাণিতিক সূত্র সাধারণত পেটেন্টযোগ্য নয়; পেটেন্ট মূলত প্রয়োগযোগ্য প্রযুক্তিগত সমাধানের জন্য প্রযোজ্য।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংক্ষেপে

  1. DPDT-তে নির্ধারিত ফরমে উদ্ভাবনের বিস্তারিত প্রযুক্তিগত বিবরণ, দাবি (claims) ও প্রয়োজনীয় নকশাসহ আবেদন দাখিল করতে হয়।
  2. আবেদনের প্রাথমিক পরীক্ষার পর তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রকাশ করা হয়, যাতে কেউ আপত্তি জানাতে চাইলে জানাতে পারেন।
  3. পরীক্ষক আবেদনটি নতুনত্ব ও উদ্ভাবনী গুণের শর্ত পূরণ করছে কি না তা যাচাই করেন।
  4. সব শর্ত পূরণ হলে পেটেন্ট মঞ্জুর করা হয় এবং তা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কার্যকর থাকে।

আবেদনের আগে যে ভুল এড়ানো জরুরি

অনেক উদ্ভাবক পেটেন্ট আবেদনের আগেই সেমিনার, প্রকাশনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উদ্ভাবন প্রকাশ করে ফেলেন, যা নতুনত্বের শর্ত নষ্ট করতে পারে এবং পরবর্তীতে পেটেন্ট আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। তাই আবেদন দাখিলের আগ পর্যন্ত উদ্ভাবনের বিস্তারিত তথ্য সীমিত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

পেটেন্ট বনাম ট্রেডমার্ক বনাম কপিরাইট

পেটেন্ট সুরক্ষা দেয় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বা প্রক্রিয়াকে, ট্রেডমার্ক সুরক্ষা দেয় ব্র্যান্ড নাম বা লোগোকে, আর কপিরাইট সুরক্ষা দেয় সৃজনশীল রচনা, সংগীত বা শিল্পকর্মকে — তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মেধাস্বত্ব অধিকার, যেগুলো প্রয়োজনে একই পণ্যের ক্ষেত্রে একসঙ্গেও প্রযোজ্য হতে পারে।

ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া জানতে পড়ুন বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, আর কপিরাইট সুরক্ষা জানতে পড়ুন কপিরাইট আইন: লেখক, শিল্পী ও নির্মাতার আইনগত সুরক্ষা।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)