j
ব্যাংকিং ও আর্থিক আইন

ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬: সংসদীয় কমিটির সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ

ব্যাংক ভবন ও আর্থিক নথির প্রতীকী দৃশ্য, ব্যাংক রেজল্যুশন সংশোধনী বিল সম্পর্কিত
প্রতীকী ছবি: ব্যাংকিং ও আর্থিক আইন

মূল পয়েন্ট

  • ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
  • মূল ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছিল
  • আইনের বিতর্কিত ধারা অনুযায়ী দুর্বল ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের সহজ শর্তে ফিরে আসার সুযোগ নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল
  • সংশোধনীর নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনো বিস্তারিত প্রকাশ পায়নি, বিল এখন পূর্ণাঙ্গ সংসদে পাসের অপেক্ষায়

বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের একটি সংশোধনী বিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ পেয়েছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পরীক্ষা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

কী ঘটেছে

কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূর-উল-ইসলাম মনি এবং কমিটির সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর কমিটি বিলটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে।

কবে ও কোথায় ঘটেছে

বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ ভবনে। প্রাপ্ত প্রতিবেদনে সংশোধনীর সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি — শুধু কমিটির সুপারিশের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

আইনি প্রেক্ষাপট: মূল আইনটি কী নিয়ে

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৯ মে জারি করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মূলধন ঘাটতি, আর্থিক সংকট বা দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে থাকা তফসিলি ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া। এই আইনের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা, শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষমতা সীমিত করা, প্রশাসক নিয়োগ, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া এবং প্রয়োজনে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে। এই আইনের আওতায়ই পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

আইনটি সংসদে পাসের আগে যুক্ত হওয়া একটি বিতর্কিত ধারা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল, যাতে বলা হয় — সংকটে পড়ে একীভূত হওয়া ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডাররা সরকার নির্ধারিত অর্থের একটি ছোট অংশ (প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ) অগ্রিম জমা দিয়ে এবং বাকি অংশ কম সুদে কয়েক বছরে পরিশোধ করে পুনরায় শেয়ার ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আবেদন করতে পারবেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই বিধানকে দুর্নীতি ও ব্যাংক লুণ্ঠনকারীদের পুনর্বাসনের ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।

এর প্রভাব কী

সংশোধনী বিলের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো সরকারিভাবে প্রকাশ না পেলেও, মূল আইনের বিতর্কিত অংশ নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এই সংশোধনী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিটির সুপারিশের পর বিলটি এখন পূর্ণাঙ্গ জাতীয় সংসদে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই সংশোধনী কী পরিবর্তন আনে, তা সংসদে চূড়ান্ত পাসের পরই স্পষ্ট হবে। ব্যাংকঋণ খেলাপি হলে আইনি পরিণতি কী হয়, তা জানতে পড়ুন ব্যাংক ঋণ খেলাপি হলে কী হয়: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ সহজ ভাষায়।

শেয়ার করুন:
Editorial Desk

Editorial Desk

BDLawsDaily Editorial Desk বাংলাদেশের আইন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ, সংসদীয় কার্যক্রম, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আইন সংশোধনী সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করে।

মন্তব্যসমূহ (০)