ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করলে ঋণগ্রহীতা "ঋণখেলাপি" হিসেবে বিবেচিত হন। বাংলাদেশে ব্যাংক-ঋণ সংক্রান্ত মামলা সাধারণ দেওয়ানি আদালতে নয়, বরং বিশেষায়িত অর্থঋণ আদালতে (Artha Rin Adalat) নিষ্পত্তি হয়, যা পরিচালিত হয় অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর অধীনে।
ঋণখেলাপি হলে ব্যাংক প্রথমে কী করে
ঋণ কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না হলে ব্যাংক সাধারণত প্রথমে ঋণগ্রহীতাকে তাগাদাপত্র বা নোটিশ পাঠায়। দীর্ঘদিন খেলাপি থাকলে ব্যাংক ঋণ হিসাবটিকে "শ্রেণিকৃত" (ক্লাসিফায়েড) ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং প্রয়োজনীয় প্রাক-মামলা নোটিশ দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নেয়।
অর্থঋণ আদালতে মামলা
প্রাক-মামলা প্রতিকারে ব্যর্থ হলে ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে। বন্ধকি সম্পত্তি থাকলে আদালত তা নিলামে বিক্রি করে পাওনা আদায়ের আদেশ দিতে পারেন। এই আইনে মামলার নিষ্পত্তি তুলনামূলক দ্রুততর করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পদ্ধতি নির্ধারিত আছে, যা সাধারণ দেওয়ানি মামলার চেয়ে ভিন্ন।
জামিনদার বা গ্যারান্টরের দায়
ঋণের বিপরীতে কেউ জামিনদার বা গ্যারান্টর হয়ে থাকলে, ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে ব্যাংক জামিনদারের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে — এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা জামিনদার হওয়ার আগে অবশ্যই বিবেচনায় রাখা উচিত।
সিআইবি (CIB) রিপোর্টে প্রভাব
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (CIB)-তে ঋণখেলাপির তথ্য নথিভুক্ত হয়, যা ভবিষ্যতে নতুন ঋণ পাওয়া বা আর্থিক লেনদেনে জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই খেলাপি হওয়ার আগেই ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনঃতফসিল (রিশিডিউল) বা ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ আছে কি না, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণগ্রহীতার করণীয়
- ঋণ পরিশোধে সমস্যা হলে দেরি না করে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা
- সম্ভব হলে পুনঃতফসিল বা কিস্তি পুনর্বিন্যাসের আবেদন করা
- মামলার নোটিশ পেলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া
- বন্ধকি সম্পত্তি সংক্রান্ত সব নথিপত্র সংরক্ষণ করা
ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই শর্তাবলি ভালোভাবে বোঝা জরুরি। চুক্তির সাধারণ শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন বৈধ চুক্তির অপরিহার্য শর্ত ও চুক্তি ভঙ্গ হলে আইনি প্রতিকার।

মন্তব্যসমূহ (০)