j
চুক্তি আইন

বাসাবাড়ি বা দোকান ভাড়ার চুক্তি: ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার আইনগত অধিকার-কর্তব্য

বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র ও ঘরের চাবি হাতে দুই পক্ষের প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি: চুক্তি আইন

মূল পয়েন্ট

  • মৌখিক চুক্তিও আইনত বৈধ হলেও লিখিত ভাড়ার চুক্তি বিরোধ এড়াতে সবচেয়ে নিরাপদ
  • অগ্রিম ভাড়া নির্দিষ্ট সীমার বেশি আদায় প্রিমিসেস ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে নিষিদ্ধ
  • যথাযথ নোটিশ ছাড়া ভাড়াটিয়াকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যায় না
  • ভাড়া নিয়ে বিরোধ হলে ভাড়া নিয়ন্ত্রক বা দেওয়ানি আদালতে প্রতিকার চাওয়া যায়

ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বাসাবাড়ি বা দোকান ভাড়া নেওয়া-দেওয়া নিত্যদিনের ঘটনা, অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয় শুধু মুখের কথায় বা অস্পষ্ট শর্তে। ফলে অগ্রিম টাকা ফেরত না দেওয়া, হঠাৎ উচ্ছেদের হুমকি বা অন্যায্য ভাড়া বৃদ্ধির মতো বিরোধ প্রায়ই দেখা যায়। বাংলাদেশে বাড়িভাড়া সম্পর্ক মূলত নিয়ন্ত্রিত হয় প্রিমিসেস ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ এবং সাধারণ চুক্তি আইনের নীতি দ্বারা।

ভাড়ার চুক্তিতে কী কী থাকা উচিত

একটি ভালো ভাড়ার চুক্তিতে অন্তত নিচের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে লেখা থাকা উচিত।

  • বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার পূর্ণ নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
  • ভাড়ার পরিমাণ, পরিশোধের তারিখ ও মাধ্যম
  • অগ্রিম বা জামানতের পরিমাণ এবং তা ফেরতের শর্ত
  • চুক্তির মেয়াদ ও নবায়নের শর্ত
  • উচ্ছেদ বা চুক্তি বাতিলের জন্য নোটিশের সময়সীমা
  • মেরামত ও সার্ভিস চার্জ কে বহন করবে

অগ্রিম ভাড়া নিয়ে আইন কী বলে

প্রিমিসেস ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ অগ্রিম আদায় করতে পারেন না — আইনে একটি সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া আছে, যা সাধারণত কয়েক মাসের ভাড়ার সমান। এর বেশি অগ্রিম দাবি করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভাড়াটিয়া চাইলে অতিরিক্ত আদায় করা অগ্রিমের বিষয়ে ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ করতে পারেন।

ভাড়া বৃদ্ধি ও উচ্ছেদ সংক্রান্ত সুরক্ষা

ভাড়া বৃদ্ধি

চুক্তির মেয়াদ চলাকালীন বাড়িওয়ালা একতরফাভাবে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াতে পারেন না। ভাড়া বৃদ্ধির প্রশ্নে দুই পক্ষের সম্মতি বা চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তই মূল ভিত্তি; কোনো পক্ষ একমত না হলে বিষয়টি ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো যায়।

উচ্ছেদ

ভাড়াটিয়াকে জোর করে বা হঠাৎ তালা লাগিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া আইনসম্মত নয়। উচ্ছেদ করতে হলে যথাযথ লিখিত নোটিশ দিতে হয় এবং ভাড়াটিয়া অস্বীকার করলে বাড়িওয়ালাকে আদালতের মাধ্যমেই উচ্ছেদের প্রতিকার চাইতে হয়, নিজে থেকে বলপ্রয়োগ করা যায় না।

ভাড়াটিয়ার সাধারণ দায়িত্ব

  • নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা
  • বাড়ির স্বাভাবিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সহযোগিতা করা
  • চুক্তির শর্ত ভেঙে অননুমোদিত ব্যবসা বা উপভাড়া (সাবলেট) না দেওয়া, যদি চুক্তিতে নিষেধ থাকে

বিরোধ হলে কোথায় যাবেন

ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধে প্রথমে লিখিতভাবে অপর পক্ষকে জানানো ভালো। সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অভিযোগ করা যায়, আবার প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালতেও মামলা করা যায়। মামলা করার আগে দেওয়ানি না ফৌজদারি — কোন পথে যাওয়া উচিত তা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে মামলা করার আগে যা জানা জরুরি শীর্ষক লেখাটি।

একটি স্পষ্ট, লিখিত ভাড়ার চুক্তি — যাতে ভাড়া, জামানত, মেয়াদ ও উচ্ছেদের শর্ত সুনির্দিষ্ট থাকে — দুই পক্ষকেই ভবিষ্যতের অনেক আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)