বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলোয় বিনা অভিযোগে দীর্ঘদিন আটক রাখার প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দীর্ঘমেয়াদি বিচারপূর্ব আটক অবসানের পাশাপাশি কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
এইচআরডব্লিউর মূল উদ্বেগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এক বছরের বেশি বিনা অভিযোগে আটক রাখার সুযোগ থাকলেও, সেই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি লিখিতভাবে নথিভুক্ত করার শর্ত রয়েছে। কিন্তু এইচআরডব্লিউর দাবি, ট্রাইব্যুনাল ১৬০ জনের বেশি আটক ব্যক্তির জামিন আবেদন লিখিত কারণ ছাড়াই নাকচ করেছে এবং জামিন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও দেয়নি।
যেসব নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে
প্রতিবেদনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে:
- সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক (৮২) — ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরও একের পর এক মামলা দিয়ে তাঁর মুক্তি ঠেকানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। দীর্ঘ ১৩ মাসের বেশি সময় বিনা অভিযোগে আটক থাকার পর তিনি ২০২৬ সালের আগস্টে মুক্তি পান।
- সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (৮১) — অভিযোগ ছাড়াই ২২ মাস আটক ছিলেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির লিখিত ব্যাখ্যা ছাড়াই তাঁর জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে।
- সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন (৮৫) — চিকিৎসা ও জামিন সুবিধা না পাওয়ার পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে মারা যান।
এইচআরডব্লিউর সুনির্দিষ্ট সুপারিশ
প্রতিবেদনে কারাগারে মৃত্যুর সব ঘটনার স্বাধীন তদন্ত, দীর্ঘমেয়াদি নির্বিচার আটক বন্ধ, বিচারকদের মাধ্যমে ব্যক্তিভিত্তিক আটক পর্যালোচনা এবং অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।
কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
ন্যায্য বিচারের অধিকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের একটি মৌলিক নীতি — অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে যত বিতর্কিতই হোন না কেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে বিচার পাওয়ার অধিকার সংরক্ষিত থাকা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের এই ধরনের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখিত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিষয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতি হয়েছে — আপিল বিভাগ হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখায় তাঁর মুক্তির পথ সুগম হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ (০)