j
LLB

Doctrine of Eclipse ও Doctrine of Severability: সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের আলোকে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইনের পরিণতি

সংবিধানের বই, সূর্যগ্রহণের প্রতীক ও আলাদা করা আইনের পাতাসহ কার্টুন চিত্র
প্রতীকী ছবি: LLB

মূল পয়েন্ট

  • ২৬(১) অনুচ্ছেদ: সংবিধান-পূর্ব আইন মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যতটুকু অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততটুকু সংবিধান প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাতিল
  • ২৬(২) অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন করতে পারবে না; করলে ততটুকু বাতিল
  • Eclipse: অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংবিধান-পূর্ব আইন মৃত নয়, ছায়াচ্ছন্ন; বাধা সরে গেলে আবার কার্যকর হতে পারে
  • Severability: আইনের বৈধ অংশ অবৈধ অংশ থেকে আলাদা করা গেলে শুধু অবৈধ অংশ বাতিল হয়

একটি আইন সংসদ পাস করেছে, গেজেটে প্রকাশও হয়েছে, কিন্তু তার কোনো একটি বিধান সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাহলে কি পুরো আইনটিই অচল? নাকি শুধু সাংঘর্ষিক অংশটুকু? আর আইনটি যদি সংবিধান প্রণয়নের আগের হয়, তাহলে কি হিসাব বদলায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজে সাংবিধানিক আইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ: Doctrine of Eclipse বা আচ্ছাদন মতবাদ এবং Doctrine of Severability বা পৃথকীকরণ মতবাদ।

দুটি মতবাদেরই মূল ভিত্তি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ। এলএলবির সাংবিধানিক আইন কোর্সে এবং বিচার বিভাগীয় পরীক্ষায় বিষয়টি নিয়মিত আসে। নিচে অনুচ্ছেদের পাঠ, মতবাদ দুটির অর্থ, উৎস, প্রয়োগ ও সীমাবদ্ধতা ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।

ভিত্তি: সংবিধানের সর্বোচ্চতা

সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন, এবং অন্য কোনো আইন এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে। এটি সাধারণ নীতি। মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে এই নীতিকে আরও সুনির্দিষ্ট রূপ দিয়েছে ২৬ অনুচ্ছেদ।

২৬ অনুচ্ছেদ কী বলে

২৬ অনুচ্ছেদের তিনটি দফা আছে:

  1. ২৬(১): সংবিধানের তৃতীয় ভাগের (মৌলিক অধিকার) বিধানাবলির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সকল প্রচলিত আইন, যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান প্রবর্তন থেকে ততখানি বাতিল হবে।
  2. ২৬(২): রাষ্ট্র তৃতীয় ভাগের কোনো বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন প্রণয়ন করবে না, এবং অনুরূপ কোনো আইন প্রণীত হলে তা যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে।
  3. ২৬(৩): ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধানের কোনো সংশোধনের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

লক্ষ করুন, দুটি দফাতেই "যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি" কথাটি আছে। এই শব্দবন্ধেই নিহিত আছে Severability মতবাদ। আর ২৬(১)-এর "প্রচলিত আইন" ও ২৬(২)-এর "রাষ্ট্র... আইন প্রণয়ন করবে না" কথার পার্থক্য থেকে তৈরি হয়েছে Eclipse মতবাদের পরিধির প্রশ্ন।

Doctrine of Eclipse: আচ্ছাদন মতবাদ

অর্থ

সূর্যগ্রহণে সূর্য বিলুপ্ত হয় না, শুধু চাঁদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে; ছায়া সরে গেলে আবার আলো দেয়। Eclipse মতবাদের যুক্তিও একই রকম। সংবিধান প্রবর্তনের আগে বৈধভাবে প্রণীত কোনো আইন মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে আইনটি মরে যায় না; মৌলিক অধিকারের ছায়ায় ঢাকা পড়ে সুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় থাকে। পরে সংবিধান সংশোধন করে সেই বাধা সরিয়ে দেওয়া হলে আইনটি আবার কার্যকর হয়ে ওঠে, নতুন করে প্রণয়নের প্রয়োজন হয় না।

উৎস: ভারতীয় নজির

মতবাদটির বিকাশ ঘটে মূলত ভারতের সুপ্রিম কোর্টে, ভারতীয় সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায়, যা আমাদের ২৬ অনুচ্ছেদের সমতুল্য। দুটি মামলা গুরুত্বপূর্ণ:

  • Keshavan Madhava Menon v State of Bombay (১৯৫১): আদালত বলেন, সংবিধান-পূর্ব আইন মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তা শুরু থেকে বাতিল (void ab initio) নয়; সংবিধান প্রবর্তনের পর থেকে ভবিষ্যতের জন্য অকার্যকর। ফলে সংবিধান প্রবর্তনের আগে সংঘটিত কাজের জন্য শুরু হওয়া মামলা চলতে পারে।
  • Bhikaji Narain Dhakras v State of Madhya Pradesh (১৯৫৫): একটি সংবিধান-পূর্ব মোটরযান আইন মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। পরে সংবিধান সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট অধিকারের পরিধি বদলানো হয়। আদালত বলেন, আইনটি এত দিন ছায়াচ্ছন্ন ছিল মাত্র; সংশোধনীর ফলে ছায়া সরে যাওয়ায় তা আবার কার্যকর হয়েছে। এখানেই মতবাদটির পূর্ণ রূপ পায়।

সংবিধান-পরবর্তী আইনের ক্ষেত্রে কি প্রযোজ্য?

এখানেই মূল বিতর্ক। Deep Chand v State of Uttar Pradesh (১৯৫৯) মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেন, সংবিধান প্রবর্তনের পর রাষ্ট্র মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে কোনো আইন প্রণয়নই করতে পারে না; এমন আইন শুরু থেকেই বাতিল, মৃতজাত (still-born)। পরে সংবিধান সংশোধন করলেও তা নিজে থেকে জীবিত হয় না, নতুন করে প্রণয়ন করতে হয়। অর্থাৎ Eclipse মতবাদ মূলত সংবিধান-পূর্ব আইনের জন্য। পরবর্তী কিছু ভারতীয় রায়ে এই অবস্থানে সূক্ষ্ম পরিবর্তন এসেছে, যেমন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত অধিকারের ক্ষেত্রে আইনটি অ-নাগরিকদের বিরুদ্ধে কার্যকর থাকতে পারে কি না, সে প্রশ্নে। তবে পরীক্ষার উত্তরে মূল পার্থক্যটি স্পষ্ট রাখাই যথেষ্ট।

বাংলাদেশের ২৬(২) অনুচ্ছেদের ভাষাও "রাষ্ট্র... আইন প্রণয়ন করবে না" অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞামূলক। তাই একই যুক্তিতে সংবিধান-পরবর্তী অসাংবিধানিক আইন শুরু থেকে বাতিল বলে গণ্য হওয়ার যুক্তিই শক্তিশালী। ভারতীয় নজির বাংলাদেশের আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে প্ররোচনামূলক (persuasive) মূল্য রাখে, এবং ভাষাগত সাদৃশ্যের কারণে আমাদের আইন শিক্ষায় এগুলো ব্যাপকভাবে পড়ানো হয়।

Doctrine of Severability: পৃথকীকরণ মতবাদ

অর্থ

একটি আইনের কোনো একটি ধারা বা অংশ অসাংবিধানিক হলেই পুরো আইন বাতিল করা হয় না। অসাংবিধানিক অংশটি যদি বাকি আইন থেকে আলাদা করা যায় এবং আলাদা করার পরও বাকি অংশ স্বতন্ত্রভাবে কার্যকর ও অর্থবহ থাকে, তাহলে শুধু অসাংবিধানিক অংশই বাতিল হবে। একে বলা হয় পৃথকীকরণ বা Severability। ২৬ অনুচ্ছেদের "যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি" কথাটিই এর সাংবিধানিক ভিত্তি।

পৃথকীকরণের পরীক্ষা

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট R.M.D. Chamarbaugwalla v Union of India (১৯৫৭) মামলায় পৃথকীকরণের কয়েকটি নির্দেশক দিয়েছিলেন, যা উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে অনুসৃত:

  • আইনসভার উদ্দেশ্যই মূল বিবেচ্য: অবৈধ অংশ বাদ দিলেও আইনসভা বাকি অংশ পাস করত কি না।
  • বৈধ ও অবৈধ অংশ এমনভাবে জড়িয়ে থাকলে যে আলাদা করা যায় না, তাহলে পুরো আইনই বাতিল হবে।
  • অবৈধ অংশ বাদ দেওয়ার পর বাকি অংশ যদি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে তা আইনসভার উদ্দেশ্য পূরণ করে না, তাহলেও পুরো আইন বাতিল হবে।
  • আলাদা করার জন্য আদালত আইন পুনর্লিখন করবেন না; আইনসভার কাজ আদালত নিজের হাতে নেবেন না।

এর আগে A.K. Gopalan v State of Madras (১৯৫০) মামলায় নিবর্তনমূলক আটক আইনের একটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষিত হলেও আদালত সেটি বাকি আইন থেকে আলাদা করে আইনটির অবশিষ্ট অংশ বহাল রেখেছিলেন। এটি পৃথকীকরণের একটি প্রাথমিক উদাহরণ।

দুটি মতবাদের তুলনা

বিষয়Doctrine of EclipseDoctrine of Severability
মূল প্রশ্নঅসামঞ্জস্যপূর্ণ আইনের অবস্থা কী: মৃত না সুপ্ত?আইনের কতটুকু বাতিল হবে: পুরোটা না অংশবিশেষ?
প্রযোজ্য ক্ষেত্রমূলত সংবিধান-পূর্ব আইন (২৬(১))সংবিধান-পূর্ব ও পরবর্তী উভয় আইন
ফলাফলবাধা সরে গেলে আইন আবার কার্যকর হতে পারেবৈধ অংশ টিকে থাকে, অবৈধ অংশ বাতিল
সাংবিধানিক শব্দ"প্রচলিত আইন... প্রবর্তন থেকে বাতিল""যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি"

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কয়েকটি বিশেষ দিক

সংবিধান সংশোধন ২৬ অনুচ্ছেদের বাইরে

২৬(৩) অনুচ্ছেদ স্পষ্ট করেছে যে ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধান সংশোধন ২৬ অনুচ্ছেদের মাপকাঠিতে বাতিল হবে না। অর্থাৎ সংশোধনী আইনকে "মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ" বলে ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা বিচার হয় ভিন্ন মাপকাঠিতে, যেমন মৌলিক কাঠামো মতবাদ, যা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ (অষ্টম সংশোধনী মামলা) এ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিস্তারিত: Basic Structure Doctrine কী।

৪৭ ও ৪৭ক অনুচ্ছেদের সুরক্ষা

সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ কিছু নির্দিষ্ট ধরনের আইনকে, যেমন ভূমি সংস্কার বা জাতীয়করণ সংক্রান্ত আইন এবং প্রথম তফসিলে উল্লিখিত আইনকে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যের কারণে বাতিল হওয়া থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। ৪৭ক অনুচ্ছেদ আন্তর্জাতিক অপরাধ-সংক্রান্ত আইনের ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ সীমিত করেছে। পরীক্ষায় ২৬ অনুচ্ছেদ আলোচনার সময় এই ব্যতিক্রমগুলোর উল্লেখ উত্তরকে পূর্ণতা দেয়।

জরুরি অবস্থা: Eclipse-এর সাংবিধানিক রূপ

সংবিধানের ১৪১খ অনুচ্ছেদ জরুরি অবস্থা চলাকালে ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪২ অনুচ্ছেদের অধিকার রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী ক্ষমতাকে সীমিত করবে না বলে বিধান দেয়। তবে এমন আইন জরুরি অবস্থার ঘোষণা অকার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, অসামঞ্জস্যের পরিমাণ পর্যন্ত, কার্যকারিতা হারায়। এটি Eclipse ধারণার উল্টো দিক: এখানে অধিকারগুলো সাময়িকভাবে ছায়াচ্ছন্ন হয়, এবং জরুরি অবস্থা শেষ হলে আবার পূর্ণ শক্তিতে ফিরে আসে।

সংশ্লিষ্ট আরেকটি মতবাদ: Doctrine of Waiver

পরীক্ষায় Eclipse ও Severability-র সঙ্গে প্রায়ই Waiver বা অধিকার পরিত্যাগের প্রশ্ন আসে: কোনো ব্যক্তি কি স্বেচ্ছায় নিজের মৌলিক অধিকার ছেড়ে দিতে পারেন, যাতে অসাংবিধানিক আইন তাঁর ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হয়? ভারতের সুপ্রিম কোর্ট Basheshar Nath v Commissioner of Income Tax (১৯৫৯) মামলায় বলেন, মৌলিক অধিকার শুধু ব্যক্তির সুবিধার জন্য নয়, জনস্বার্থ ও সাংবিধানিক নীতির অংশ হিসেবে দেওয়া; তাই অন্তত সমতার অধিকারের মতো অধিকার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করতে পারেন না। যুক্তিটি সহজ: রাষ্ট্রের ওপর সংবিধান যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, কোনো নাগরিকের সম্মতিতে তা উঠে যেতে পারে না। ২৬(২) অনুচ্ছেদের ভাষাও রাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে লেখা, তাই একই যুক্তি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক। উত্তরে এই মতবাদের উল্লেখ দেখায় যে আপনি ২৬ অনুচ্ছেদকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, পুরো মৌলিক অধিকার কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছেন।

প্রয়োগ: আদালতে কীভাবে কাজ করে

কোনো আইনের বিধান মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে মনে হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করতে পারেন। আদালত প্রথমে দেখেন সংশ্লিষ্ট মৌলিক অধিকার কী এবং তার ওপর আরোপিত বাধানিষেধ সংবিধান অনুমোদিত "যুক্তিসংগত বাধানিষেধের" মধ্যে পড়ে কি না। অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে আদালত ঠিক করেন বিধানটি আলাদা করা যায় কি না। বাস্তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আদালত নির্দিষ্ট ধারা বা উপধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন, পুরো আইন নয়। মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিচারিক প্রতিকার নিয়ে দেখুন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় প্রতিকার।

সাধারণ ভুল

  • Eclipse মতবাদকে সংবিধান-পরবর্তী আইনে নির্বিচারে প্রয়োগ করা।
  • Severability মানে আদালত আইনের ভাষা বদলে দেবেন, এমন ধারণা। আদালত শুধু অবৈধ অংশ বাদ দেন, নতুন শব্দ যোগ করেন না।
  • ২৬(৩) উল্লেখ না করে সংবিধান সংশোধনীকে ২৬ অনুচ্ছেদে চ্যালেঞ্জযোগ্য বলা।
  • ভারতীয় নজিরকে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক বলে উপস্থাপন করা।

পরীক্ষার উত্তর-কাঠামো ও অনুশীলনী

"Doctrine of Eclipse ব্যাখ্যা কর" প্রশ্নে ভূমিকা, ৭(২) ও ২৬ অনুচ্ছেদের পাঠ, মতবাদের অর্থ, Keshavan Madhava Menon ও Bhikaji Narain মামলা, সংবিধান-পরবর্তী আইনে প্রযোজ্যতা (Deep Chand), বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এবং উপসংহার, এই ক্রম অনুসরণ করা যায়। নিচের প্রশ্নগুলো সিলেবাসভিত্তিক অনুশীলনী, কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার প্রশ্ন নয়:

  • সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের আলোকে Doctrine of Eclipse আলোচনা কর।
  • Doctrine of Severability কী? এর প্রয়োগের শর্তাবলি ব্যাখ্যা কর।
  • সংবিধান-পূর্ব ও সংবিধান-পরবর্তী আইনের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যের পরিণতির পার্থক্য দেখাও।

সংবিধান পড়ার কৌশল নিয়ে আরও জানতে পড়ুন আইন শিক্ষার্থী হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান কীভাবে পড়বেন।

শেষ কথা

দুটি মতবাদই আসলে একটি ভারসাম্যের খোঁজ: একদিকে মৌলিক অধিকারের সর্বোচ্চতা, অন্যদিকে আইনসভার প্রণীত আইনের প্রতি যথাসম্ভব সম্মান। Severability নিশ্চিত করে যে একটি ত্রুটির জন্য পুরো আইন বাতিল হবে না, আর Eclipse ব্যাখ্যা করে কেন পুরোনো আইন মৌলিক অধিকারের সামনে নীরব থাকলেও বিলুপ্ত হয় না। ২৬ অনুচ্ছেদের "যতখানি... ততখানি" শব্দবন্ধটি মনে রাখলে দুটি মতবাদের যুক্তি সহজেই মনে থাকবে।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)