j
LLB

সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ: আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতি আলোচনা কর

সমান উচ্চতার মঞ্চে দাঁড়ানো ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ও সংবিধানের বইয়ের প্রতীকী কার্টুন চিত্র
প্রতীকী ছবি: LLB

মূল পয়েন্ট

  • ২৭ অনুচ্ছেদ: সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী
  • ২৮(১) অনুচ্ছেদ: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে রাষ্ট্র বৈষম্য করবে না
  • সমতা মানে সবার সঙ্গে একই আচরণ নয়; যুক্তিসংগত শ্রেণীকরণ বৈধ, স্বেচ্ছাচারী শ্রেণীকরণ নয়
  • ২৮(৪) অনুচ্ছেদ নারী, শিশু ও অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধানের সুযোগ দেয়

সমতা আধুনিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধ। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় "সাম্য" ও "সামাজিক সুবিচার"কে রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আর তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকারের অধ্যায় শুরুই হয়েছে সমতার অনুচ্ছেদ দিয়ে। ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ মিলে সমতার অধিকারের মূল কাঠামো তৈরি করে, যার সঙ্গে ২৯ অনুচ্ছেদ সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা যুক্ত করেছে।

এলএলবি সাংবিধানিক আইনের পরীক্ষায় "সমতার অধিকার" এবং "যুক্তিসংগত শ্রেণীকরণ" অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নিচে অনুচ্ছেদগুলোর পাঠ, ব্যাখ্যা, মতবাদ ও বাস্তব প্রয়োগ আলোচনা করা হলো।

২৭ অনুচ্ছেদ: আইনের দৃষ্টিতে সমতা

২৭ অনুচ্ছেদ বলে: সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী। এখানে দুটি আলাদা ধারণা আছে:

আইনের দৃষ্টিতে সমতা (Equality before law)

এটি ইংলিশ সাংবিধানিক চিন্তা, বিশেষত এ ভি ডাইসির আইনের শাসনের ধারণা থেকে এসেছে। এর অর্থ, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়; প্রধানমন্ত্রী থেকে সাধারণ নাগরিক, সবাই একই আইনের অধীন এবং একই আদালতে জবাবদিহি করেন। এটি একটি নেতিবাচক ধারণা, অর্থাৎ বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ অব্যাহতি না থাকা। আইনের শাসন নিয়ে পড়ুন Rule of Law নীতির মূল বৈশিষ্ট্য।

আইনের সমান আশ্রয় (Equal protection of law)

এটি মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী থেকে আসা ধারণা। এর অর্থ, একই অবস্থার মানুষের সঙ্গে আইন একই আচরণ করবে, অধিকার দেওয়া ও দায় আরোপে। এটি একটি ইতিবাচক ধারণা: রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে সমান অবস্থার মানুষ সমান সুরক্ষা পায়।

সমতা মানে কি সবার সঙ্গে হুবহু একই আচরণ?

না। এটি সমতার অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা। অসমান অবস্থার মানুষের সঙ্গে একই আচরণ করা নিজেই অসমতা তৈরি করে। যেমন, ধনী ও দরিদ্রের ওপর একই হারে কর আরোপ, অথবা প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী প্রার্থীর জন্য একই শারীরিক পরীক্ষা। তাই সমতার নীতি রাষ্ট্রকে মানুষকে শ্রেণিতে ভাগ করে ভিন্ন আচরণের অনুমতি দেয়, তবে শর্তসাপেক্ষে। এখান থেকেই এসেছে যুক্তিসংগত শ্রেণীকরণের মতবাদ।

যুক্তিসংগত শ্রেণীকরণের মতবাদ (Doctrine of Reasonable Classification)

শ্রেণীকরণ বৈধ হতে দুটি শর্ত পূরণ করতে হয়:

  1. বোধগম্য পার্থক্য (Intelligible differentia): যাদের এক শ্রেণিতে রাখা হয়েছে এবং যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে স্পষ্ট ও যুক্তিসংগত পার্থক্য থাকতে হবে।
  2. যৌক্তিক সম্পর্ক (Rational nexus): সেই পার্থক্যের সঙ্গে আইনের উদ্দেশ্যের যৌক্তিক সম্পর্ক থাকতে হবে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের State of West Bengal v Anwar Ali Sarkar (1952) মামলায় এই দুই শর্তের পরীক্ষা সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং বাংলাদেশের আদালতও একই মানদণ্ড অনুসরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ভারতের E P Royappa v State of Tamil Nadu (1974) মামলায় যুক্ত হয় আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি: স্বেচ্ছাচারিতা নিজেই সমতার পরিপন্থী। অর্থাৎ শ্রেণীকরণ না থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী হলে তা সমতার অধিকার লঙ্ঘন করে।

উদাহরণে শ্রেণীকরণ

  • বৈধ: শিশু অপরাধীদের জন্য আলাদা শিশু আদালত; বয়স্ক নাগরিকের জন্য বয়স্ক ভাতা; নির্দিষ্ট আয়ের ওপরে আয়কর।
  • প্রশ্নবিদ্ধ: একই পদের দুজন কর্মকর্তার মধ্যে কেবল নিয়োগের জেলা ভিন্ন হওয়ায় ভিন্ন সুবিধা, যদি তার পেছনে যুক্তিসংগত কারণ না থাকে।

বাংলাদেশের আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশের উচ্চ আদালত বিভিন্ন মামলায় যুক্তিসংগত শ্রেণীকরণের দুই শর্তের পরীক্ষা এবং স্বেচ্ছাচারিতা-বিরোধী নীতি প্রয়োগ করেছেন, বিশেষ করে সরকারি চাকরি, অবসর, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে। আদালতের সাধারণ অবস্থান হলো, রাষ্ট্রের হাতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা থাকলেও তা নির্দেশিকা বা যুক্তি ছাড়া প্রয়োগ করা হলে সমতার অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন ওঠে। পরীক্ষায় নির্দিষ্ট নজির উল্লেখ করতে চাইলে পাঠ্যবইয়ে দেওয়া মামলার নাম ও সাইটেশন যাচাই করে লিখুন; অনুমান করে সাইটেশন লেখা নম্বর কমায়।

২৮ অনুচ্ছেদ: বৈষম্যহীনতা

২৮(১): রাষ্ট্রীয় বৈষম্য নিষেধ

কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। "কেবল" শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ: এসব কারণের সঙ্গে অন্য যুক্তিসংগত কারণ যুক্ত থাকলে পার্থক্য সবসময় বৈষম্য নাও হতে পারে।

২৮(২): রাষ্ট্র ও গণজীবনে নারীর সমান অধিকার

রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। লক্ষণীয়, অনুচ্ছেদটি "রাষ্ট্র ও গণজীবনের" কথা বলে; ব্যক্তিগত পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে।

২৮(৩): জনসাধারণের স্থানে প্রবেশ

কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশ কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোনো নাগরিককে অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।

২৮(৪): বিশেষ বিধানের সুযোগ

নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্র বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারবে। এটি সমতার ব্যতিক্রম নয়, বরং প্রকৃত সমতা অর্জনের উপায়, যাকে "ইতিবাচক পদক্ষেপ" বা affirmative action বলা হয়। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন, শিশুদের জন্য বিশেষ আইন বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা এর উদাহরণ।

আনুষ্ঠানিক সমতা বনাম প্রকৃত সমতা

সমতার দুটি ধারণা আইনচর্চায় আলোচিত। আনুষ্ঠানিক সমতা (formal equality) বলে, সবাইকে একই নিয়মে বিচার করো। প্রকৃত সমতা (substantive equality) বলে, ফলাফলে সমতা আনতে ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর জন্য বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সংবিধান দুটিকেই স্বীকার করে: ২৭ ও ২৮(১) অনুচ্ছেদ আনুষ্ঠানিক সমতার ভিত্তি, আর ২৮(৪) ও ২৯(৩) অনুচ্ছেদ প্রকৃত সমতা অর্জনের হাতিয়ার। পরীক্ষায় এই পার্থক্য দেখাতে পারলে উত্তর বিশ্লেষণধর্মী হয়।

অনুচ্ছেদগুলো কার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য

২৮(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে "রাষ্ট্র" বৈষম্য করবে না বলা হয়েছে। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় সংসদ, সরকার ও সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ অন্তর্ভুক্ত। ফলে সাধারণভাবে বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি এসব অনুচ্ছেদে রিট চলে না। তবে ২৮(৩) অনুচ্ছেদ জনসাধারণের স্থানে প্রবেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য নিষেধ করে, আর বেসরকারি খাতে বৈষম্য রোধে সংসদ আলাদা আইন করতে পারে, যেমন শ্রম আইনে নারী শ্রমিকের সুরক্ষা।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলে সমতা

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের প্রথম অনুচ্ছেদই বলে, সব মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করে এবং মর্যাদা ও অধিকারে সমান; ৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও বৈষম্যহীন সুরক্ষার কথা আছে। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (CEDAW) বাংলাদেশ অনুসমর্থন করেছে, যদিও কিছু অনুচ্ছেদে সংরক্ষণ রয়েছে। এসব দলিল দেশীয় সংবিধানের সমতার ধারণা ব্যাখ্যায় সহায়ক। পড়ুন মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব।

একটি সমস্যাভিত্তিক উদাহরণ

প্রশ্ন: একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম করল, কেবল নির্দিষ্ট একটি জেলার শিক্ষার্থীরা একটি বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্য জেলার এক শিক্ষার্থী সমতার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রিট করতে চান। তাঁর অবস্থান কী?

উত্তরের কাঠামো: প্রথমে, বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ হলে "রাষ্ট্র"-এর আওতায় পড়ে। দ্বিতীয়ত, এখানে শ্রেণীকরণ জন্মস্থান বা বসবাসের ভিত্তিতে, যা ২৮(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কারণ। তৃতীয়ত, প্রশ্ন হলো এটি "কেবল" জন্মস্থানের কারণে কি না, নাকি অন্য যুক্তি আছে, যেমন বৃত্তিটি কোনো দাতা ওই জেলার পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য দিয়েছেন এবং জেলাটি সত্যিই অনগ্রসর। তেমন হলে ২৮(৪) অনুচ্ছেদের বিশেষ বিধানের যুক্তি আসতে পারে। যুক্তিসংগত ভিত্তি না থাকলে শ্রেণীকরণ বৈষম্যমূলক। সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বৃত্তির উদ্দেশ্য ও শ্রেণীকরণের যৌক্তিক সম্পর্কের ওপর।

২৯ অনুচ্ছেদ: সরকারি নিয়োগে সুযোগের সমতা

২৯ অনুচ্ছেদ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভে সব নাগরিকের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করে, এবং ২৯(৩) অনুচ্ছেদ নাগরিকদের অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান বা সংরক্ষণের সুযোগ রাখে। সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে বিতর্ক মূলত এই অনুচ্ছেদকে ঘিরে। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আপিল বিভাগ সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের হার বাড়িয়ে কোটার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর আদেশ দেন, যা সুযোগের সমতা ও বিশেষ বিধানের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নটিকে সামনে আনে।

মৌলিক অধিকার হিসেবে বলবৎযোগ্যতা

২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকার, তাই ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করে এগুলো বলবৎ করা যায়। ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন অসামঞ্জস্যতার পরিমাণে বাতিল। বিস্তারিত দেখুন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে বিচার বিভাগীয় প্রতিকার।

২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সম্পর্ক

৩১ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিক এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী ও কেবল আইন অনুযায়ী ব্যবহার লাভের অধিকার দিয়েছে। ২৭ অনুচ্ছেদ যেখানে সমান আচরণের ওপর জোর দেয়, ৩১ অনুচ্ছেদ সেখানে আইনসম্মত আচরণের নিশ্চয়তা দেয়। উচ্চ আদালত প্রায়ই এই দুই অনুচ্ছেদ একসঙ্গে পড়ে স্বেচ্ছাচারী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। আরও মনে রাখুন, ২৭ অনুচ্ছেদ কেবল নাগরিকদের জন্য, কিন্তু ৩১ অনুচ্ছেদ বিদেশিসহ সব ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য।

করারোপ ও অর্থনৈতিক নীতিতে সমতা

কর, ভর্তুকি বা অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত রাষ্ট্রকে শ্রেণীকরণে বেশি স্বাধীনতা দেন, কারণ এসব ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণে জটিল বিবেচনা জড়িত। আয়ের স্তরভেদে ভিন্ন করহার বা নির্দিষ্ট শিল্পকে কর অব্যাহতি সাধারণত বৈধ শ্রেণীকরণ, যদি তার পেছনে যুক্তিসংগত নীতিগত উদ্দেশ্য থাকে। তবে একই অবস্থার দুই করদাতার মধ্যে কোনো কারণ ছাড়া বৈষম্য সমতার প্রশ্ন তোলে।

শিক্ষার্থীদের সাধারণ ভুল

  • "সমতা মানে সবার সঙ্গে একই আচরণ" লিখে থেমে যাওয়া।
  • যুক্তিসংগত শ্রেণীকরণের দুটি শর্ত আলাদা করে ব্যাখ্যা না করা।
  • ২৮(৪) অনুচ্ছেদকে সমতার "লঙ্ঘন" হিসেবে উপস্থাপন করা, যদিও এটি প্রকৃত সমতার উপায়।
  • অনুচ্ছেদগুলো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সরাসরি প্রযোজ্য বলে লেখা।

পরীক্ষায় উত্তর লেখার কাঠামো

  1. ভূমিকা: সংবিধানে সমতার স্থান, প্রস্তাবনার উল্লেখ।
  2. ২৭ অনুচ্ছেদের পাঠ ও দুই ধারণার ব্যাখ্যা।
  3. সমতার আপেক্ষিক অর্থ ও যুক্তিসংগত শ্রেণীকরণ, দুই শর্তসহ।
  4. স্বেচ্ছাচারিতা-বিরোধী নীতি।
  5. ২৮ অনুচ্ছেদের চারটি উপ-অনুচ্ছেদ।
  6. ২৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পর্ক।
  7. নজির ও উপসংহার।

সংবিধান পড়ার কৌশল নিয়ে দেখুন আইন শিক্ষার্থী হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান কীভাবে পড়বেন।

সংবিধানের অন্যান্য অংশে সমতার প্রতিফলন

সমতার নীতি কেবল তৃতীয় ভাগেই সীমাবদ্ধ নয়। দ্বিতীয় ভাগের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ১৯ অনুচ্ছেদ সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার এবং মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করার কথা বলে। এসব মূলনীতি আদালতে সরাসরি বলবৎযোগ্য না হলেও সংবিধান ও আইন ব্যাখ্যায় নির্দেশক। ফলে উচ্চ আদালত সমতার অধিকার ব্যাখ্যায় প্রায়ই এসব মূলনীতির আলো ব্যবহার করেন। দুই ভাগের পার্থক্য জানতে পড়ুন মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির পার্থক্য।

উপসংহার

২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে বলে, মানুষকে তাদের পরিচয়ের কারণে নয়, তাদের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিবেচনা করো। সমতা মানে যান্ত্রিক একরূপতা নয়; বরং যুক্তিসংগত পার্থক্য স্বীকার করে স্বেচ্ছাচারিতা ও বৈষম্য দূর করা। এই ভারসাম্যই সমতার অধিকারকে একটি জীবন্ত সাংবিধানিক নীতিতে পরিণত করেছে।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)