ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্প, জাল দলিল দিয়ে জমি বিক্রি বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে অগ্রিম টাকা নেওয়া — এই ধরনের প্রতারণামূলক কাজ বাংলাদেশে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০ ধারার আওতায় পড়ে, যা "প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচিত করা" সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে।
৪২০ ধারা কী বলে
দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে, কোনো মূল্যবান জিনিস হস্তান্তর করতে বা কোনো নথিতে স্বাক্ষর করাতে প্ররোচিত করে, তাহলে তার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
প্রতারণা প্রমাণে কী দেখা হয়
- শুরু থেকেই অভিযুক্তের অসৎ বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না
- মিথ্যা তথ্য বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল কি না
- সেই বিভ্রান্তির ফলেই ভুক্তভোগী সম্পত্তি বা অর্থ হস্তান্তর করেছেন কি না
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়া বা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়া মানেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফৌজদারি প্রতারণা নয়। অভিযুক্তের শুরু থেকেই প্রতারণার অসৎ অভিপ্রায় ছিল, এটি প্রমাণ করাই মূল চ্যালেঞ্জ।
প্রতারণা বনাম সাধারণ চুক্তি লঙ্ঘন
ব্যবসায়িক লেনদেনে ক্ষতি হলে বা প্রতিশ্রুত পণ্য/সেবা সময়মতো না পেলে তা প্রায়ই দেওয়ানি চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়, যার প্রতিকার দেওয়ানি আদালতে চাওয়া যায়। কিন্তু শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাউকে প্রলুব্ধ করা হলে তা ফৌজদারি অপরাধ — উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিকার ভিন্ন, এবং কখনো কখনো একই ঘটনায় দুই ধরনের প্রতিকারই সমান্তরালে চাওয়া সম্ভব।
প্রতারণার শিকার হলে করণীয়
- লেনদেন সংক্রান্ত সব নথি, রসিদ, চুক্তিপত্র ও বার্তা সংরক্ষণ করুন।
- নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দাখিল করুন।
- পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করলে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারের জন্য যায়।
- প্রয়োজনে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য দেওয়ানি প্রতিকারও একসঙ্গে বিবেচনা করা যায়।
সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধারা
প্রতারণার সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারা (বিশ্বাসভঙ্গ বা criminal breach of trust), যা প্রযোজ্য হয় যখন কাউকে বিশ্বাস করে সম্পত্তি ন্যস্ত করার পর সেই ব্যক্তি অসৎভাবে তা আত্মসাৎ করেন — এটি প্রতারণা থেকে সামান্য ভিন্ন একটি ধারণা, যদিও অনেক ক্ষেত্রে দুটি ধারা একসঙ্গেও প্রযোজ্য হতে পারে।
থানায় এজাহার (এফআইআর) দায়েরের সঠিক নিয়ম জানতে পড়ুন থানায় এজাহার (এফআইআর) দায়েরের সঠিক নিয়ম।

মন্তব্যসমূহ (০)