j
সাইবার আইন

ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দিলে আইনগত কী শাস্তি হতে পারে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট সংক্রান্ত আইনি নথির প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি: সাইবার আইন

মূল পয়েন্ট

  • সামাজিক মাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইন উভয়ের আওতায় পড়তে পারে
  • মানহানির অভিযোগ প্রমাণে বক্তব্যটি মিথ্যা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত হয়েছে তা দেখাতে হয়
  • ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করতে পারেন
  • সত্য কথা প্রকাশ্য স্বার্থে বললে তা মানহানির আওতায় নাও পড়তে পারে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে নিয়ে মিথ্যা বা অবমাননাকর মন্তব্য দেওয়া অনেকেই সাধারণ বিষয় মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার জন্য একাধিক আইনে প্রতিকার রয়েছে।

মানহানি কী

দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী, কারও সম্পর্কে এমন কোনো মিথ্যা কথা বলা, লেখা বা প্রকাশ করা যা তার সম্মান বা সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং তা জেনে-বুঝে বা বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকা সত্ত্বেও প্রচার করা হয়—তাকে মানহানি বলা হয়। ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন বক্তব্য প্রচার করলেও তা মানহানির আওতায় পড়ে।

অনলাইন মানহানিতে কোন আইন প্রযোজ্য

শারীরিক জগতের মানহানির মতো দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় শাস্তির বিধান থাকলেও, ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়ানো মানহানিকর, ভীতি প্রদর্শনকারী বা মিথ্যা তথ্যের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা-সংক্রান্ত আইনও প্রযোজ্য হতে পারে, বিশেষত যখন তা ব্যাপকভাবে প্রচার বা কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়।

মানহানি প্রমাণে যা দেখাতে হয়

  • বক্তব্যটি নির্দিষ্টভাবে অভিযোগকারীকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে।
  • বক্তব্যটি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর।
  • বক্তব্যটি তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রচারিত বা প্রকাশিত হয়েছে।
  • এর ফলে অভিযোগকারীর সামাজিক সম্মান বা সুনামের প্রকৃত ক্ষতি হয়েছে।

ব্যতিক্রম কখন প্রযোজ্য

দণ্ডবিধিতে কিছু ব্যতিক্রমও উল্লেখ আছে—যেমন জনস্বার্থে সত্য তথ্য প্রকাশ, ন্যায্য সমালোচনা বা আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন সাধারণত মানহানির আওতায় পড়ে না। তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এই ব্যতিক্রমের সুরক্ষা পায় না।

ভুক্তভোগীর করণীয়

  1. মানহানিকর পোস্ট বা মন্তব্যের স্ক্রিনশট ও লিংক সংরক্ষণ করতে হবে।
  2. সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট রিপোর্ট করা যায়।
  3. থানায় সাধারণ ডায়েরি বা প্রয়োজনে মামলা দায়ের করা যায়।
  4. গুরুতর ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের মামলাও করা যায়।

অনলাইনে মন্তব্য করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা—এই সাধারণ সতর্কতাই আইনি জটিলতা থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ উপায়।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)