j
সাইবার আইন

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী কোন কোন কাজ অপরাধ

ল্যাপটপ, ডিজিটাল লক ও সাইবার নিরাপত্তার প্রতীকী দৃশ্য
প্রতীকী ছবি: সাইবার আইন

মূল পয়েন্ট

  • সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ পূর্ববর্তী অধ্যাদেশ রহিত করে বলবৎ হয়েছে
  • হ্যাকিং, পরিচয় জালিয়াতি ও অনলাইন হয়রানি সাধারণভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য
  • পূর্ববর্তী আইনের কিছু বিতর্কিত ধারা পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা হয়েছে
  • সাইবার অপরাধের শিকার হলে প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত অভিযোগ জানানো উচিত

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আইনি কাঠামো গত কয়েক বছরে একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে — সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ থেকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ হয়ে সবশেষ কার্যকর হয়েছে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬। এই ক্রমাগত পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকা স্বাভাবিক।

আইনের মূল উদ্দেশ্য

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও দমনের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিত করে এসেছে।

সাধারণভাবে যেসব কার্যক্রম অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়

  • অন্যের কম্পিউটার সিস্টেম বা অ্যাকাউন্টে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ (হ্যাকিং)
  • পরিচয় জালিয়াতি করে অন্যের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা বা প্রতারণা করা
  • ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা
  • কারও ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য সম্মতি ছাড়া প্রকাশ বা প্রচার করা
  • সাইবার মাধ্যমে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল বা হুমকি প্রদান
  • সরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-অবকাঠামোতে অনুপ্রবেশ বা ক্ষতি সাধন

পূর্ববর্তী আইনের তুলনায় পরিবর্তন

নতুন আইন প্রণয়নের সময় সরকার জানিয়েছিল, পূর্ববর্তী আইনের কিছু বিতর্কিত ধারা — যেগুলো সমালোচকদের মতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারত — পর্যালোচনা করে সংশোধন বা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে হ্যাকিং, প্রতারণা ও প্রকৃত ক্ষতিসাধনমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিধান বহাল রয়েছে।

অভিযোগ হলে কী করবেন

নিজে সাইবার অপরাধের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ (স্ক্রিনশট, লিংক, বার্তা) সংরক্ষণ করে নিকটস্থ থানার সাইবার সহায়তা ইউনিট বা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানানো যায়। অনলাইন হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে বিস্তারিত আইনি প্রতিকার সম্পর্কে জানতে পড়ুন অনলাইনে হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে আইনি প্রতিকার কী।

মনে রাখা জরুরি

সাইবার আইনের নির্দিষ্ট ধারা, শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতিগত খুঁটিনাটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট মামলা বা পরিস্থিতিতে সঠিক আইনি অবস্থান জানতে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)