নিম্ন আদালতের রায়ে অসন্তুষ্ট হলে অনেকেই বলেন "আপিল করব", কিন্তু আইনগতভাবে পরিস্থিতিভেদে সঠিক পথ হতে পারে আপিল অথবা রিভিশন। দুটোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
আপিল কী
আপিল হলো নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে করা একটি সুনির্দিষ্ট আইনগত অধিকার, যেখানে মামলার তথ্য (Facts) ও আইন (Law)—উভয় বিষয়ই পুনর্বিবেচনা করা যায়। তবে আপিলের অধিকার স্বয়ংক্রিয় নয়—এটি শুধু তখনই পাওয়া যায় যখন সংশ্লিষ্ট আইনে সুনির্দিষ্টভাবে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
রিভিশন কী
রিভিশন হলো উচ্চ আদালতের একটি তত্ত্বাবধানমূলক ক্ষমতা, যার মাধ্যমে নিম্ন আদালতের কার্যক্রমে আইনগত ভুল, এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা প্রক্রিয়াগত অনিয়ম হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। রিভিশনে সাধারণত তথ্যগত বিষয় নিয়ে নতুন করে বিচার হয় না।
মূল পার্থক্য
- বিষয়বস্তু: আপিলে তথ্য ও আইন উভয় পর্যালোচিত হয়, রিভিশনে মূলত আইনগত দিক পর্যালোচিত হয়।
- অধিকার বনাম ক্ষমতা: আপিল আইনে নির্ধারিত একটি অধিকার, রিভিশন আদালতের নিজস্ব বিচক্ষণতাভিত্তিক ক্ষমতা।
- প্রযোজ্যতা: আইনে আপিলের সুযোগ না থাকলে পক্ষগুলো রিভিশনের আশ্রয় নিতে পারেন, তবে তা আপিলের বিকল্প হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়।
ফৌজদারি মামলায় কখন কোনটি প্রযোজ্য
দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি সাধারণত সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারেন উচ্চতর আদালতে। অন্যদিকে, যদি নিম্ন আদালত এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে কোনো আদেশ দেয়, বা কার্যক্রমে গুরুতর আইনগত ত্রুটি হয়, অথচ আপিলের সরাসরি সুযোগ না থাকে, তখন রিভিশনের আশ্রয় নেওয়া যায়।
সময়সীমার গুরুত্ব
আপিল ও রিভিশন উভয়ের জন্যই তামাদি আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে বিশেষ কারণ দেখিয়ে বিলম্ব মার্জনার (Condonation of Delay) আবেদন না করলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
সঠিক প্রতিকার বেছে নেওয়া মামলার ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই রায়ের পরপরই আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে আপিল নাকি রিভিশন—কোন পথ উপযুক্ত তা নির্ধারণ করা উচিত।

মন্তব্যসমূহ (০)