নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে তার প্রতিকারের পথ হলো উচ্চ আদালতে আপিল করা। আপিল অর্থ নতুন করে মামলা দায়ের করা নয়, বরং নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন।
আপিল করার মৌলিক শর্ত
- আপিল করতে হয় নির্দিষ্ট, আইনে বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে — এই মেয়াদ মামলার ধরন ও রায়দানকারী আদালতের স্তরভেদে ভিন্ন হতে পারে
- রায়ের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করে তা আপিল আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হয়
- নির্ধারিত কোর্ট ফি পরিশোধ করতে হয়
আপিল কোন আদালতে করতে হয়
ফৌজদারি মামলায় সাধারণত জেলা ও দায়রা জজ আদালত অথবা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা হয়, নির্ভর করে মূল রায়টি কোন আদালত দিয়েছিল তার উপর। দেওয়ানি মামলায়ও একইভাবে মামলার আর্থিক মূল্যমান ও রায়দানকারী আদালতের স্তর অনুযায়ী আপিলের আদালত নির্ধারিত হয়।
বিলম্বিত আপিলের ক্ষেত্রে কী হয়
নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও, বিলম্বের সঙ্গত কারণ থাকলে আদালতের কাছে বিলম্ব মার্জনার (condonation of delay) আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে এই আবেদন গ্রহণ করা বা না করা সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিবেচনার বিষয়।
আপিলের সময় বিবেচ্য বিষয়
আপিল আদালত সাধারণত মূল রায়ে আইনগত বা তথ্যগত কোনো ভুল হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করে। তাই আপিল দায়েরের সময় মূল রায়ের কোন অংশে ভুল হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
যেহেতু সময়সীমা ও প্রক্রিয়াগত শর্ত মামলার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়, আপিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যাতে নির্ধারিত সময়সীমা হাতছাড়া না হয়।

মন্তব্যসমূহ (০)