সমস্যাভিত্তিক প্রশ্ন সমাধান কর: থানা এজাহার (FIR) লিপিবদ্ধ করতে অস্বীকার করলে করণীয় কী?
প্রশ্ন: ক একটি আমলযোগ্য অপরাধের (Cognizable Offence) শিকার হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে এজাহার দাখিল করতে চান। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে এজাহার লিপিবদ্ধ করতে অস্বীকার করেন। ক-এর আইনগত করণীয় কী?
সরাসরি উত্তর
ক প্রথমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কাছে ধারা ১৫৪(৩) অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ পাঠাতে পারেন, অথবা সরাসরি ধারা ২০০ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। প্রয়োজনে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনের মাধ্যমেও এজাহার লিপিবদ্ধের নির্দেশনা চাইতে পারেন।
Issue (আইনি প্রশ্ন)
মূল আইনি প্রশ্ন হলো — আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পাওয়ার পরও থানা যদি এজাহার লিপিবদ্ধ করতে অস্বীকার করে, তাহলে ভুক্তভোগীর আইনগত প্রতিকার কী কী।
প্রযোজ্য আইন
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪(১) অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য মৌখিক বা লিখিতভাবে থানায় দেওয়া হলে, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা একটি নির্দিষ্ট বইতে (এজাহার বই) লিপিবদ্ধ করতে আইনগতভাবে বাধ্য — এখানে তাঁর কোনো বিচক্ষণ ক্ষমতা (Discretion) নেই যে তিনি তা লিপিবদ্ধ করবেন কি করবেন না। ধারা ১৫৪(৩) অনুযায়ী, যদি থানা এজাহার লিপিবদ্ধ করতে অস্বীকার করে, তাহলে ভুক্তভোগী সেই তথ্য লিখিতভাবে ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কাছে পাঠাতে পারেন, এবং পুলিশ সুপার যদি সন্তুষ্ট হন যে তথ্যটি আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত, তাহলে তিনি নিজে মামলাটি তদন্ত করতে পারেন বা অধস্তন কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
বিকল্পভাবে, ধারা ২০০ অনুযায়ী ভুক্তভোগী সরাসরি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি অভিযোগ (Complaint) দাখিল করতে পারেন, এবং ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনে ধারা ১৫৬(৩) অনুযায়ী পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
Application (আইনের প্রয়োগ)
এই ঘটনায় যেহেতু থানা ইতিমধ্যে এজাহার লিপিবদ্ধ করতে অস্বীকার করেছে, তাই ক-এর প্রথম কার্যকর পদক্ষেপ হবে ধারা ১৫৪(৩) অনুযায়ী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো। যদি এতেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তিনি ধারা ২০০ অনুযায়ী সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেতে পারেন, যিনি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিতে সক্ষম। এছাড়া, যদি এই প্রক্রিয়াগুলোও কার্যকর না হয় এবং বিষয়টি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনের মাধ্যমেও প্রতিকার চাওয়া সম্ভব।
Conclusion (সিদ্ধান্ত)
থানা এজাহার লিপিবদ্ধ করতে অস্বীকার করলে ক নিরুপায় নন — আইন তাঁকে ধাপে ধাপে একাধিক প্রতিকারের ব্যবস্থা দিয়েছে: প্রথমে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ (ধারা ১৫৪(৩)), এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সরাসরি অভিযোগ (ধারা ২০০), এবং প্রয়োজনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন। প্রতিটি ধাপই কার্যকর একটি বিকল্প, এবং ক এই ধাপগুলো ক্রমানুসারে বা পরিস্থিতি অনুযায়ী সরাসরি প্রয়োগ করতে পারেন।
পরীক্ষার খাতায় কীভাবে লিখবেন
এই ধরনের প্রশ্নে প্রথমে Facts পুনরায় সংক্ষেপে তুলে ধরুন, এরপর মূল Issue নির্ধারণ করুন। এরপর ধারা ১৫৪(৩) ও ধারা ২০০ — উভয় বিকল্প পথ পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করুন, কারণ পরীক্ষক উভয় বিকল্প সম্পর্কে জ্ঞান প্রত্যাশা করেন। সবশেষে একটি সুস্পষ্ট উপসংহারে পৌঁছান যেখানে বলা হয় ক-এর সামনে একাধিক কার্যকর প্রতিকার উন্মুক্ত রয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
থানা কি সব অভিযোগ লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য?
ধারা ১৫৪ শুধু আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য — অ-আমলযোগ্য অপরাধের (Non-cognizable Offence) ক্ষেত্রে থানা সরাসরি তদন্ত শুরু করতে পারে না, বরং ভুক্তভোগীকে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিতে বলা হয়।
এজাহার লিপিবদ্ধ না করা কি নিজেই কোনো অপরাধ?
যথাযথ কারণ ছাড়া বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার কারণ হতে পারে এবং তা কর্তব্য অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সংক্ষিপ্তভাবে মনে রাখার বিষয়
- ধারা ১৫৪(১) — আমলযোগ্য অপরাধের এজাহার লিপিবদ্ধ করা থানার বাধ্যতামূলক দায়িত্ব
- ধারা ১৫৪(৩) — অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ
- ধারা ২০০ — সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দাখিলের বিকল্প
- চূড়ান্ত প্রতিকার — প্রয়োজনে অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট আবেদন

মন্তব্যসমূহ (০)