দেশের ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সরকারের খাস জমি বন্দোবস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচি। তবে সঠিক প্রক্রিয়া না জানার কারণে অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন বা দালালের খপ্পরে পড়েন।
খাস জমি কী
খাস জমি বলতে বোঝায় সরকারের সরাসরি মালিকানাধীন জমি, যার মধ্যে রয়েছে নদীর চর, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, অর্পিত সম্পত্তি এবং বিভিন্ন কারণে সরকারের হাতে ফিরে আসা কৃষি বা অকৃষি জমি। এই জমি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রশাসনের রয়েছে।
কারা অগ্রাধিকার পান
কৃষি খাস জমি বন্দোবস্তে সরকার নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা অনুসরণ করে, যেখানে সাধারণত ভূমিহীন কৃষক, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, দুস্থ বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পান। একই পরিবার একাধিকবার বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি বন্দোবস্ত পেতে পারে না।
আবেদনের প্রক্রিয়া
- সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়।
- আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমিহীনতার প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
- ভূমি অফিস তদন্ত করে যোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা তৈরি করে এবং উপজেলা কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
- অনুমোদন পেলে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বন্দোবস্তনামা সম্পাদন করা হয়।
বন্দোবস্তের শর্ত ও বাতিলের কারণ
বন্দোবস্ত পাওয়া জমি সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত হস্তান্তর করা যায় না এবং শর্ত থাকে যে জমিটি ব্যক্তিগতভাবে চাষাবাদ বা ব্যবহারের জন্যই রাখতে হবে। নিচের কারণে বন্দোবস্ত বাতিল হতে পারে—
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি ব্যবহার শুরু না করা।
- শর্ত ভঙ্গ করে জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করা।
- ভুল তথ্য দিয়ে বন্দোবস্ত নেওয়া প্রমাণিত হলে।
বিরোধ হলে করণীয়
বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বা অন্যায়ভাবে বন্দোবস্ত বাতিল করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করতে পারেন। প্রয়োজনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট বা প্রচলিত আইনি প্রতিকারও চাওয়া যায়।
খাস জমি বন্দোবস্ত একটি সরকারি সুবিধা হলেও এর প্রক্রিয়া মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, নইলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মন্তব্যসমূহ (০)