দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ১৫টি পৃথক মামলায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস এবং অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান ২৭ আগস্ট এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার পটভূমি
মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। সব মিলিয়ে ১৫টি মামলার প্রতিটিতেই মির্জা আব্বাস অভিযুক্ত ছিলেন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও ১১ জন — এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আবদুস সাদেক, হুমায়ুন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ১৫টি মামলার মধ্যে একটিতে অভিযুক্ত ছিলেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক সব কটি মামলায় মির্জা আব্বাসকে খালাস দেন এবং যে একটি মামলায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযুক্ত ছিলেন, সেটিতেও তাঁকে খালাস দেওয়া হয়। রায়ের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি নিয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশিত হয়নি।
কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ
প্রায় দুই দশক আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তিত্ব — প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও অর্থমন্ত্রী — সংশ্লিষ্ট এসব মামলার নিষ্পত্তি রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই আলোচিত। এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মামলার নিষ্পত্তি দেশের বিচারব্যবস্থায় পুরনো মামলাজট কমানোর একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
- মামলাগুলো দুদক দায়ের করেছিল ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ
- মির্জা আব্বাস ১৫টি মামলার সবগুলোতেই অভিযুক্ত ছিলেন, সবগুলোতেই খালাস পেয়েছেন
- আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, সেটিতেও খালাস পেয়েছেন
- রায় দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান
দুদক এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কোনো পক্ষ আপিল করলে মামলাগুলোর চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।

মন্তব্যসমূহ (০)