বাংলাদেশে মুসলিম পরিবারে কারও মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয় নারী উত্তরাধিকারীদের অংশ নিয়ে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশ ঠিক করে দেয়, যেখানে স্ত্রী, কন্যা ও মায়ের অংশও সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে।
উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলনীতি
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি ভাগ হওয়ার আগে প্রথমে মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ, তার ঋণ এবং সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত অসিয়ত (যদি থাকে) পরিশোধ করতে হয়। এরপর যা অবশিষ্ট থাকে, শুধু সেই সম্পত্তিই নির্ধারিত অনুপাতে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ হয়।
স্ত্রীর অংশ কতটুকু
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী নির্দিষ্ট অংশ পান, যা নির্ভর করে স্বামীর সন্তান আছে কিনা তার ওপর।
- সন্তান থাকলে স্ত্রী সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ (১/৮) পান।
- সন্তান না থাকলে স্ত্রী এক-চতুর্থাংশ (১/৪) পান।
- একাধিক স্ত্রী থাকলে এই অংশ তাদের মধ্যে সমান ভাগে বণ্টিত হয়।
কন্যার অংশ কতটুকু
কন্যার অংশ নির্ভর করে অন্য কোন উত্তরাধিকারী উপস্থিত আছেন তার ওপর।
- একমাত্র কন্যা হলে এবং কোনো পুত্র না থাকলে তিনি সম্পত্তির অর্ধেক (১/২) পান।
- একাধিক কন্যা থাকলে এবং পুত্র না থাকলে তারা একসঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) পান, যা তাদের মধ্যে সমান ভাগ হয়।
- পুত্র ও কন্যা উভয়ে উপস্থিত থাকলে অবশিষ্ট সম্পত্তি এমনভাবে ভাগ হয় যেন প্রতিটি পুত্র প্রতিটি কন্যার দ্বিগুণ অংশ পান (২:১ অনুপাত)।
মায়ের অংশ কতটুকু
সন্তানের মৃত্যুতে মা উত্তরাধিকারী হলে তার অংশও নির্দিষ্ট।
- মৃত ব্যক্তির সন্তান বা একাধিক ভাইবোন থাকলে মা এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) পান।
- সন্তান বা একাধিক ভাইবোন না থাকলে মা এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পান।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরা যাক, এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা জীবিত আছেন। প্রথমে স্ত্রী পাবেন সম্পত্তির ১/৮ অংশ। অবশিষ্ট ৭/৮ অংশ পুত্র ও কন্যার মধ্যে ২:১ অনুপাতে ভাগ হবে—অর্থাৎ পুত্র পাবেন কন্যার দ্বিগুণ অংশ।
ব্যবহারিকভাবে যা মনে রাখা জরুরি
প্রতিটি পরিবারে উত্তরাধিকারীর সংখ্যা ও সম্পর্ক ভিন্ন হওয়ায় প্রকৃত বণ্টনের হিসাব জটিল হতে পারে, বিশেষ করে যখন একাধিক শ্রেণির উত্তরাধিকারী একসঙ্গে উপস্থিত থাকেন। এমন ক্ষেত্রে সঠিক ফারায়েজ হিসাব করার জন্য একজন আইনজীবী বা উত্তরাধিকার সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া নিরাপদ। কন্যা বা স্ত্রীকে তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা একটি আইনগত অধিকার লঙ্ঘন, যার প্রতিকার দেওয়ানি আদালতে চাওয়া যায়।

মন্তব্যসমূহ (০)