নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আইনগত যোগ্যতা পূরণ করাই যথেষ্ট নয় — প্রচারণা চালানোর সময় প্রতিটি প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে চলতে হয়। এই বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল পর্যন্ত হতে পারে।
আচরণবিধির উদ্দেশ্য
নির্বাচনী আচরণবিধির মূল লক্ষ্য হলো সব প্রার্থীর জন্য একটি ন্যায্য ও সমান সুযোগের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে কোনো প্রার্থী রাষ্ট্রীয় সুবিধা, অর্থ বা প্রভাবের অপব্যবহার করে অন্যায্য সুবিধা নিতে না পারেন।
সাধারণভাবে যা করার অনুমতি থাকে
- নির্ধারিত সীমার মধ্যে পোস্টার, লিফলেট ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার
- নির্ধারিত সময় ও স্থানে জনসভা বা পথসভা আয়োজন
- নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত ব্যয়সীমার মধ্যে প্রচার খরচ
সাধারণভাবে যা নিষিদ্ধ থাকে
- ধর্ম, বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক অনুভূতিকে প্রচারণায় ব্যবহার করা
- প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বা মিথ্যা প্রচারণা চালানো
- ভোটারদের অর্থ, উপহার বা অন্য কোনো প্রলোভন দিয়ে প্রভাবিত করা
- সরকারি সম্পদ বা যানবাহন ব্যক্তিগত প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা
- নির্ধারিত ব্যয়সীমার অতিরিক্ত খরচ করা
- ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে প্রচারণা চালানো
আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরিণতি
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সতর্কীকরণ থেকে শুরু করে প্রার্থিতা বাতিল পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রার ব্যবস্থা নিতে পারে, লঙ্ঘনের গুরুত্ব অনুযায়ী। কিছু ক্ষেত্রে ফৌজদারি অভিযোগও দায়ের হতে পারে।
প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্ক
আচরণবিধি মেনে চলা এবং প্রার্থী হওয়ার মৌলিক আইনগত যোগ্যতা পূরণ করা — দুটোই আলাদা বিষয়, তবে উভয়ই একজন প্রার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আইনগত যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আইনগত যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত।

মন্তব্যসমূহ (০)