জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এ নির্ধারিত নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।
মূল আইনি ভিত্তি
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদে।
সাধারণ যোগ্যতা
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
- ন্যূনতম নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হতে হবে
- ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে
অযোগ্যতার কিছু উদাহরণ
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হন। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি কোনো কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হয়ে থাকেন এবং সেই প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ বা তার কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনের আগে পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। এছাড়া মানসিক অসুস্থতা, দেউলিয়াত্ব ঘোষণা বা নির্দিষ্ট কিছু অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার মতো বিষয়ও অযোগ্যতার কারণ হতে পারে।
মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়া
জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন কর্তৃক যাচাই করা হয় প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা এই আইনি শর্তগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে। কোনো শর্ত পূরণ না হলে মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে, যার বিরুদ্ধে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিল করার সুযোগও থাকে।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের ঋণ, ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা ও অন্যান্য আইনগত অবস্থা যাচাই করে নেওয়া উচিত, এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ বিধিমালা বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মন্তব্যসমূহ (০)