বাংলাদেশে ব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে চাইলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি একটি জনপ্রিয় কাঠামো। এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া দেখাশোনা করে যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক দপ্তর (আরজেএসসি)।
সদস্যপদের শর্ত
একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করতে ন্যূনতম ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন শেয়ারহোল্ডার প্রয়োজন হয়। এছাড়া কোম্পানির অন্তত একজন পরিচালক প্রয়োজন হয়, যিনি নিজেও শেয়ারহোল্ডার হতে পারেন।
নিবন্ধনের ধাপসমূহ
- নাম ছাড়পত্র: আরজেএসসি-র ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রস্তাবিত কোম্পানির নামের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করতে হয়। নামটি আগে থেকে নিবন্ধিত কোনো কোম্পানির সঙ্গে মিলে গেলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না।
- সংঘ স্মারক ও সংঘ বিধি প্রস্তুত: কোম্পানির উদ্দেশ্য, কার্যক্রমের পরিধি ও অভ্যন্তরীণ পরিচালনা-নিয়ম উল্লেখ করে মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করতে হয়।
- শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য ও মূলধন কাঠামো নির্ধারণ: শেয়ারহোল্ডারদের নাম, ঠিকানা ও শেয়ারের পরিমাণ উল্লেখ করতে হয়।
- অনলাইনে আবেদন ও ফি জমা: নাম ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথিসহ আরজেএসসি-র পোর্টালে নিবন্ধনের আবেদন জমা দিতে হয়।
- নিবন্ধন সনদ ইস্যু: সব নথি সঠিক থাকলে আরজেএসসি ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট ইস্যু করে, যার মাধ্যমেই কোম্পানিটি আইনি সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সময়সীমা
সব কাগজপত্র সঠিক ও সম্পূর্ণ থাকলে সাধারণত ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে নাম ছাড়পত্র বা নথিতে ত্রুটি থাকলে এই সময় বাড়তে পারে।
নিবন্ধনের পরে করণীয়
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) সংগ্রহ করা
- প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্যাট নিবন্ধন সম্পন্ন করা
- ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা
কোম্পানি নিবন্ধনের কাগজপত্র একবার ভুলভাবে জমা পড়লে পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে, তাই সংঘ স্মারক ও সংঘ বিধি প্রস্তুতের সময় একজন আইনজীবী বা কোম্পানি সেক্রেটারির সহায়তা নেওয়া অনেক সময় ভবিষ্যতের জটিলতা এড়াতে সহায়ক হয়।

মন্তব্যসমূহ (০)