বিচারিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম "এআই গভর্ন্যান্স সামার স্কুল" উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি কী বলেছেন
প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রায় রচনার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যাবে না। তাঁর ভাষায়, মামলার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, প্রযোজ্য আইন নির্ধারণ, তথ্য-প্রমাণ যাচাই কিংবা বিচারিক বিবেচনাবোধ প্রয়োগের মতো কাজে এআই ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, "এআই ব্যবহার করতে হবে মানুষের জীবন সহজ করতে এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায়" — অর্থাৎ প্রযুক্তি বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হওয়া উচিত।
মূল উদ্বেগের জায়গা
প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, যাচাই ছাড়া এআই-জেনারেটেড তথ্যের ব্যবহার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বিচার বিভাগে এআই প্রয়োগের সুযোগ ও সীমা নির্ধারণ করে দিতে সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, কার্যকরভাবে এআই বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সংশ্লিষ্ট জনবলের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ।
কেন এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের আদালতে নথি বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান বা প্রশাসনিক কাজে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, তবে একইসঙ্গে যাচাই ছাড়া এআই-নির্ভরতার কারণে ভুল তথ্য বা অস্তিত্বহীন মামলার উদ্ধৃতি রায়ে ঢুকে পড়ার ঘটনাও বিভিন্ন দেশে সমালোচিত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির এই সুস্পষ্ট অবস্থান — এআই বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প নয় — দেশের বিচার বিভাগে প্রযুক্তি ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের দিকনির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
- রায় রচনা, তথ্য যাচাই বা বিচারিক সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহার না করার আহ্বান
- যাচাই ছাড়া এআই-জেনারেটেড তথ্যের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা
- বিচার বিভাগে এআই ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন
- প্রযুক্তির চেয়ে জনবলের দক্ষতা উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি

মন্তব্যসমূহ (০)