বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা মূলত দুই স্তরে বিভক্ত — অধস্তন বা নিম্ন আদালত এবং সুপ্রিম কোর্ট। একজন সাধারণ বিচারপ্রার্থীর জন্য এই কাঠামো বোঝা জরুরি, কারণ কোন মামলা কোন আদালতে যাবে এবং আপিলের ধাপগুলো কী — তা এই কাঠামোর ওপরই নির্ভর করে।
নিম্ন আদালত বা অধস্তন আদালত
ফৌজদারি আদালত
ফৌজদারি মামলার বিচার হয় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং দায়রা জজ আদালতে — অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী এখতিয়ার ভাগ করা থাকে।
দেওয়ানি আদালত
দেওয়ানি (সিভিল) বিরোধের জন্য রয়েছে সহকারী জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও জেলা জজ আদালত — মামলার আর্থিক মূল্যমান ও প্রকৃতি অনুযায়ী এখতিয়ার নির্ধারিত হয়।
বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, শ্রম আদালত, অর্থঋণ আদালতের মতো বিশেষায়িত আদালতও নির্দিষ্ট ধরনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য গঠিত।
সুপ্রিম কোর্ট: দুটি বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগের রয়েছে মৌলিক (অরিজিনাল), আপিল ও রিট এখতিয়ার। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট আবেদন হাইকোর্ট বিভাগেই করা হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও এই বিভাগে শোনা হয়।
আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগ হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত — হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিল এখানেই নিষ্পত্তি হয়। আপিল বিভাগের রায় দেশের সব আদালতের জন্য অবশ্যপালনীয় নজির (বাইন্ডিং প্রিসিডেন্ট) হিসেবে কাজ করে।
কেন এই কাঠামো জানা জরুরি
ভুল আদালতে মামলা দায়ের করলে তা এখতিয়ারের অভাবে খারিজ হয়ে যেতে পারে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। তাই মামলার প্রকৃতি ও এখতিয়ার বুঝে সঠিক আদালতে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — এক্ষেত্রে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
আপিলের সাধারণ ধাপ
- নিম্ন আদালতের রায়/আদেশ
- জেলা জজ আদালতে বা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল (মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী)
- হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত আপিল
নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্দিষ্ট নিয়ম-প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নিয়ম।

মন্তব্যসমূহ (০)