সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন নাহার রুনি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। মামলার সবশেষ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আরও একবার বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন ঢাকার একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। ২০১২ সালে মামলা দায়েরের পর এটি নিয়ে সময় বাড়ানো হলো ১২৯ বার।
মামলার দীর্ঘ পটভূমি
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। ঘটনার সময় তাঁদের চার বছর বয়সী সন্তান বাসাতেই ছিল। রুনির ভাই শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। শুরুতে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করলেও পরে দায়িত্ব পায় র্যাব। ১২ বছরে ১১১ বারের বেশি সময় নিয়েও র্যাব প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়। ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট এই টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় বাড়িয়ে দেয়। গত নভেম্বর থেকে মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে।
যেসব নতুন তথ্য উঠে এসেছে
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে নতুন করে তিনজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি অজ্ঞাতপরিচয় ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেছে, যেগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে — যদিও এখনো এসব নমুনার উৎস শনাক্ত করা যায়নি। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহার ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত একজন কর্মকর্তা আগে থেকেই ইঙ্গিত পেয়েছিলেন যে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ঘটনাস্থলে যাওয়া কিছু সদস্য তদন্তের বদলে আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন কি না।
বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তার প্রসঙ্গ
কৌঁসুলি জোহা দাবি করেছেন, বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও তাঁর সহযোগীরা হত্যাকাণ্ডের আগেই বিষয়টি জানতেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে "রাষ্ট্র-মদদপুষ্ট" বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও জানা গেছে। উল্লেখ্য, জিয়াউল আহসান বর্তমানে ভিন্ন একটি মামলায়ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি — স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদের গুম-সংক্রান্ত অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর গ্রেপ্তার সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে।
- দুটি অজ্ঞাতপরিচয় ডিএনএ নমুনা নতুন করে পাওয়া গেছে
- তিনজন নতুন সন্দেহভাজন শনাক্ত হয়েছেন
- তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১২৯তম বারের মতো বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে
- মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে, আগে ছিল ডিবি ও র্যাবের হাতে
দীর্ঘ ১৪ বছরেও এই বহুল আলোচিত হত্যা মামলার কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। নতুন প্রমাণগুলো তদন্তে কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, তা নির্ভর করছে আগামী প্রতিবেদনের ওপর।

মন্তব্যসমূহ (০)