স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদের কথিত গুমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১)। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের এই আবেদন মঞ্জুর করে।
মামলার পটভূমি
২০২৫ সালের ৩ জুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দাখিল করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন ২০১৫ সালে তাঁকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল। এই অভিযোগে সাতজনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক ও বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত
তদন্ত সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে ২৭ অক্টোবর।
কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ
জোরপূর্বক গুম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এ ধরনের একাধিক অভিযোগের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশোধিত আইনি কাঠামোর অধীনে এগিয়ে চলছে। একজন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিজেই বাদী হয়ে এমন অভিযোগ দাখিল করা এবং তার ভিত্তিতে সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের পদক্ষেপ — এই মামলাগুলোর অগ্রগতি বাংলাদেশে গুম-সংক্রান্ত জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জিয়াউল আহসান বর্তমানে ভিন্ন একটি বহুল আলোচিত মামলাতেও তদন্তের আওতায় রয়েছেন — সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার সাম্প্রতিক তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে।
- সালাহউদ্দিন আহমেদের অভিযোগ দাখিলের তারিখ ৩ জুন, ২০২৫
- অভিযোগে মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনাসহ সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা
- জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন অনুমোদন করেছে আইসিটি-১
- তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ২৭ অক্টোবর

মন্তব্যসমূহ (০)